ঢাকা ০১:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরদীতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫১ বার পঠিত

ঈশ^রদীতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় মুলাডুলি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন গুরুতর আহত হয়েছে। সংঘর্ষে মুলাডুলি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন আহত হওয়ার খবর শুনে পিতা আকমল হোসেন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াবন্ধ হয়ে মারা গেছেন। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার দাশুড়িার নতুন ট্রাফিক মোড়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান,আলমগীর আহত হওয়ার খবর শোনার পরই পিতা আকমল হোসেন বুকে ব্যাথা অনুভব করেন এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আহত ছাত্রলীগ নেতা আলমগীরের দু’পা ভেঙ্গে গেছে। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়,বুধবার মুলাডুলিতে দলের বর্ধিত সভায় যোগ দিতে আলমগীর হোসেনসহ তার সমর্থকরা দাশুড়িয়া নতুন ট্রাফিক মোড় হয়ে মুলাডুলি মুক্ত মঞ্চের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় দাশুড়িয়া ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে বেদম মারধর করে। এতে তার দু’টি পা ভেঙ্গে গেছে। পরে দলীয় কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মুলাডুলি ইউনিয়ন ছাত্রলীগ আয়োজিত আজকের বর্ধিত সভায় আমিসহ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা অতিথি ছিলেন। সেখানে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্ব করার কথা ছিল। বর্ধিত সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে দাশুড়িয়া ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও তার অনুসারীরা আলমগীরের ওপর হামলা চালায়। এতে আলমগীরের দু’পা ভেঙে যাওয়ায় খবর শুনে তাঁর পিতা হার্ট এ্যাটাক করে মারা গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ফয়সালকে তার পদ হতে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
মুলাডুলি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন মিঠু জানান,আলমগীর ও ফাহিম দু’জনই আমার নিকট আত্মীয়। কলেজ সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল বলে শুনেছি। সেই দ্বন্দ্বের সূত্র ধরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।
মুলাডুলি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম মালিথা জানান,ঘটনাটি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে। ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে এ ধরনের কর্মকান্ড কোনভাবে কাম্য নয়। আহত আলমগীর হোসেনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে শুনেছি।
এদিকে অভিযুক্ত দাশুড়িয়া ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের সাথে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
দাশুড়িয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই কলেজ ক্যাম্পাস ও আশেপাশের এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় দাশুড়িয়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদারের জন্য বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখনো লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :

ঈশ্বরদীতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩

ঈশ^রদীতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় মুলাডুলি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন গুরুতর আহত হয়েছে। সংঘর্ষে মুলাডুলি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন আহত হওয়ার খবর শুনে পিতা আকমল হোসেন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াবন্ধ হয়ে মারা গেছেন। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার দাশুড়িার নতুন ট্রাফিক মোড়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান,আলমগীর আহত হওয়ার খবর শোনার পরই পিতা আকমল হোসেন বুকে ব্যাথা অনুভব করেন এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আহত ছাত্রলীগ নেতা আলমগীরের দু’পা ভেঙ্গে গেছে। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়,বুধবার মুলাডুলিতে দলের বর্ধিত সভায় যোগ দিতে আলমগীর হোসেনসহ তার সমর্থকরা দাশুড়িয়া নতুন ট্রাফিক মোড় হয়ে মুলাডুলি মুক্ত মঞ্চের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় দাশুড়িয়া ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে বেদম মারধর করে। এতে তার দু’টি পা ভেঙ্গে গেছে। পরে দলীয় কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মুলাডুলি ইউনিয়ন ছাত্রলীগ আয়োজিত আজকের বর্ধিত সভায় আমিসহ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা অতিথি ছিলেন। সেখানে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্ব করার কথা ছিল। বর্ধিত সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে দাশুড়িয়া ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও তার অনুসারীরা আলমগীরের ওপর হামলা চালায়। এতে আলমগীরের দু’পা ভেঙে যাওয়ায় খবর শুনে তাঁর পিতা হার্ট এ্যাটাক করে মারা গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ফয়সালকে তার পদ হতে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
মুলাডুলি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন মিঠু জানান,আলমগীর ও ফাহিম দু’জনই আমার নিকট আত্মীয়। কলেজ সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল বলে শুনেছি। সেই দ্বন্দ্বের সূত্র ধরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।
মুলাডুলি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম মালিথা জানান,ঘটনাটি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে। ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে এ ধরনের কর্মকান্ড কোনভাবে কাম্য নয়। আহত আলমগীর হোসেনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে শুনেছি।
এদিকে অভিযুক্ত দাশুড়িয়া ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের সাথে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
দাশুড়িয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই কলেজ ক্যাম্পাস ও আশেপাশের এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় দাশুড়িয়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদারের জন্য বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখনো লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।