ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo চাটমোহরে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo চাটমোহরে বিদেশ প্রত্যাগত অভিবাসীদের পুনঃএকত্রীকরনে রেইজ প্রকল্পের ভূমিকা শীর্ষক ওরিয়েন্টেশন Logo চাটমেহরে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত Logo নারী মাদক পাচারকারী আটক ও ৩৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ Logo উত্তাল বঙ্গোপসাগর, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত Logo জ্যৈষ্ঠের গরমে তাল শাঁসের ব্যাপক চাহিদা Logo চাটমোহরে শিল্পী সমাজীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo ভারতে অস্ত্র চোরাচালান বন্ধ করেছে আ. লীগ সরকার : প্রধানমন্ত্রী Logo পাবনার ভাঁড়ারা ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান গ্রেপ্তার Logo গুরুদাসপুরে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে তামাকের মূল্য ও কর বৃদ্ধির দাবীতে অবস্থান কর্মসূচী

খালেদা জিয়া শর্ত সাপেক্ষে বিদেশে যাবেন না:ফকরুল

বিশেষ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০২৩ ৬৬ বার পঠিত

আইনের দোহাই দিয়ে চিকিৎসা থেকে খালেদা জিয়াকে বঞ্চিত রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভীষণ অসুস্থ এবং দেশে চিকিৎসা অসম্ভব হওয়া সত্ত্বেও সিনিয়র সিটিজেন একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়া শুধু অমানবিক নয়, সংবিধান লঙ্ঘন এবং বেআইনিও বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অন্যায়ভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার পরিণতি কখনো ভালো হয় না। যত দ্রুত সম্ভব দেশনেত্রীকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে একজন নাগরিক হিসাবে তাকে সুচিকিৎসা পাওয়ার সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হোক। অন্যথায় একজন গুরুত্বপূর্ণ, জনপ্রিয় প্রবীণ নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার না দিয়ে তার প্রতি বেআইনি, অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ করার জন্য সরকারকেই দায়ী থাকতে হবে।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ‘অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লন্ডনে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। এত অশালীন, কুরুচিপূর্ণ, দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর মতো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে দিতে পারেন না। সেটা আমরা ভাবতে পারি না। তার বক্তব্যে প্রমাণ হয়েছে এ দেশের মালিক একজন। এ দেশে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউ নেই। বিচার বিভাগ তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি আইন-আদালতের তোয়াক্কা করেন না। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে যে কথা তিনি বলেছেন তাতে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ফুটে উঠেছে।’

খালেদা জিয়ার ৮০ বছর বয়স হয়েছে, অসুস্থ তো হবেনই, সময় হয়ে গেছে এত কান্নাকাটি করে লাভ নেই প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, কতটা অমানবিক হলে এ ধরনের কথা তিনি বলতে পারেন।

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো শর্ত সাপেক্ষে তিনি বিদেশে যাবেন না-এটা পরিবার থেকে বলে দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে রেখে কেন, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখেও বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। এটা একেবারেই পরিষ্কার কথা।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপির পরবর্তী সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা তো জোর করে তাকে বিদেশে নিয়ে যেতে পারি না। এখানকার চিকিৎসা যেভাবে হচ্ছে সেভাবেই চালিয়ে যাব। আমরা বিশ্বাস করি জনগণের আন্দোলনে সরকারের পতন হবে। তখন খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়ে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা পাবেন। এ সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রতিহিংসা থেকে বিরত থেকে খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাই। এজন্যই আমরা গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলি। আশা করি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়েও কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে লিভারে জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি দুটি কিডনি দুর্বল হয়ে পড়ে। মেডিকেল বোর্ড বারবার বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দিচ্ছে পরিবারকে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে প্রায় সিসিইউতে নেওয়া হচ্ছে। অবস্থার একটু উন্নতি হলে আবার কেবিনে ফেরত আনা হয়। মেডিকেল বোর্ড সর্বসম্মতভাবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য বিদেশে কোনো আধুনিক, উন্নত ও বিশেষায়িত হাসপাতালে দ্রুত স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছে। এ অবস্থায় ডাক্তাররা পরিবারকে বারবার চাপে রাখছেন বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য। বিএনপি দলীয়ভাবেও সরকারের কাছে নানাভাবে আবেদন জানিয়েছে গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে। এমনকি পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক আবেদন করা হয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সুযোগ দিতে। কিন্তু সরকার এতে সায় দিচ্ছে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের আইনমন্ত্রী ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার দোহাই দিচ্ছেন। অথচ ৪০১ ধারায় কোথাও সরকারের এমন সিদ্ধান্ত দিতে বাধা দেয় না। এর জন্য প্রয়োজন শুধু সরকারের সদিচ্ছা।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত কাউকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর কোনো দৃষ্টান্ত নেই। অথচ সত্য হলো-শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তৎকালীন জাসদের সাধারণ সম্পাদক আ স ম আব্দুর রবকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে ১৩ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমকে ১/১১-এর সরকার ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এমন দৃষ্টান্ত আরও আছে। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ কারাগারে অসুস্থ হলে তার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। সারা বিশ্বে এমন আরও বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। কাজেই দেশনেত্রীকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তা কোনো নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে না। বরং প্রতিষ্ঠিত মানবিক ও আইনানুগ দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনাও (প্রধানমন্ত্রী) এমন সুযোগ ব্যবহার করেছেন ২০০৮ সালে। জরুরি আইনের সরকারের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বেশ কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ থেকে তখন বলা হয়েছিল, মামলাগুলো বিচারে কোনো বাধা নেই। এর মধ্যে ছিল মিগ ২৯ ক্রয়ে দুর্নীতির মামলা এবং ফ্রিগেট ক্রয়ে দুর্নীতির মামলা। এছাড়া বেশ কয়েকটি চাঁদাবাজির মামলা ছিল তার বিরুদ্ধে। মামলাগুলোতে চার্জশিট দিয়ে চার্জ গঠন করা হয়েছিল। বিচারে সাক্ষীও শুরু হয়েছিল একাধিক মামলায়। এই অবস্থায় নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল তাকে। অসুস্থাতার কথা বলেই বিদেশে চিকিৎসার জন্য তাকে মুক্তি দিয়েছিল জরুরি আইনের সরকার। যদিও সাবজেল থেকে নির্বাহী আদেশে মুক্ত হওয়ার দু-তিন দিনের মধ্যেই তিনি বিদেশে যান চিকিৎসার জন্য।

তিনি বলেন, নির্বাহী আদেশে শেখ হাসিনার মুক্তির পরও একটি চাঁদাবাজির মামলায় ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছিল। এই মামলাটিতে জামিনের আবেদন হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপিল বিভাগেও খারিজ করা হয়েছিল। তিনি নির্বাচনের আগে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছিলেন একজন ওয়ারেন্টের আসামি হিসাবে এবং প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথও নিয়েছিলেন ওয়ারেন্টের আসামি থাকা অবস্থায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন-বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু প্রমুখ।

ট্যাগস :

খালেদা জিয়া শর্ত সাপেক্ষে বিদেশে যাবেন না:ফকরুল

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০২৩

আইনের দোহাই দিয়ে চিকিৎসা থেকে খালেদা জিয়াকে বঞ্চিত রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভীষণ অসুস্থ এবং দেশে চিকিৎসা অসম্ভব হওয়া সত্ত্বেও সিনিয়র সিটিজেন একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়া শুধু অমানবিক নয়, সংবিধান লঙ্ঘন এবং বেআইনিও বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অন্যায়ভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার পরিণতি কখনো ভালো হয় না। যত দ্রুত সম্ভব দেশনেত্রীকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে একজন নাগরিক হিসাবে তাকে সুচিকিৎসা পাওয়ার সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হোক। অন্যথায় একজন গুরুত্বপূর্ণ, জনপ্রিয় প্রবীণ নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার না দিয়ে তার প্রতি বেআইনি, অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ করার জন্য সরকারকেই দায়ী থাকতে হবে।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ‘অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লন্ডনে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। এত অশালীন, কুরুচিপূর্ণ, দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর মতো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে দিতে পারেন না। সেটা আমরা ভাবতে পারি না। তার বক্তব্যে প্রমাণ হয়েছে এ দেশের মালিক একজন। এ দেশে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউ নেই। বিচার বিভাগ তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি আইন-আদালতের তোয়াক্কা করেন না। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে যে কথা তিনি বলেছেন তাতে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ফুটে উঠেছে।’

খালেদা জিয়ার ৮০ বছর বয়স হয়েছে, অসুস্থ তো হবেনই, সময় হয়ে গেছে এত কান্নাকাটি করে লাভ নেই প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, কতটা অমানবিক হলে এ ধরনের কথা তিনি বলতে পারেন।

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো শর্ত সাপেক্ষে তিনি বিদেশে যাবেন না-এটা পরিবার থেকে বলে দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে রেখে কেন, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখেও বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। এটা একেবারেই পরিষ্কার কথা।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপির পরবর্তী সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা তো জোর করে তাকে বিদেশে নিয়ে যেতে পারি না। এখানকার চিকিৎসা যেভাবে হচ্ছে সেভাবেই চালিয়ে যাব। আমরা বিশ্বাস করি জনগণের আন্দোলনে সরকারের পতন হবে। তখন খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়ে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা পাবেন। এ সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রতিহিংসা থেকে বিরত থেকে খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাই। এজন্যই আমরা গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলি। আশা করি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়েও কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে লিভারে জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি দুটি কিডনি দুর্বল হয়ে পড়ে। মেডিকেল বোর্ড বারবার বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দিচ্ছে পরিবারকে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে প্রায় সিসিইউতে নেওয়া হচ্ছে। অবস্থার একটু উন্নতি হলে আবার কেবিনে ফেরত আনা হয়। মেডিকেল বোর্ড সর্বসম্মতভাবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য বিদেশে কোনো আধুনিক, উন্নত ও বিশেষায়িত হাসপাতালে দ্রুত স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছে। এ অবস্থায় ডাক্তাররা পরিবারকে বারবার চাপে রাখছেন বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য। বিএনপি দলীয়ভাবেও সরকারের কাছে নানাভাবে আবেদন জানিয়েছে গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে। এমনকি পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক আবেদন করা হয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সুযোগ দিতে। কিন্তু সরকার এতে সায় দিচ্ছে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের আইনমন্ত্রী ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার দোহাই দিচ্ছেন। অথচ ৪০১ ধারায় কোথাও সরকারের এমন সিদ্ধান্ত দিতে বাধা দেয় না। এর জন্য প্রয়োজন শুধু সরকারের সদিচ্ছা।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত কাউকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর কোনো দৃষ্টান্ত নেই। অথচ সত্য হলো-শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তৎকালীন জাসদের সাধারণ সম্পাদক আ স ম আব্দুর রবকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে ১৩ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমকে ১/১১-এর সরকার ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এমন দৃষ্টান্ত আরও আছে। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ কারাগারে অসুস্থ হলে তার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। সারা বিশ্বে এমন আরও বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। কাজেই দেশনেত্রীকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তা কোনো নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে না। বরং প্রতিষ্ঠিত মানবিক ও আইনানুগ দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনাও (প্রধানমন্ত্রী) এমন সুযোগ ব্যবহার করেছেন ২০০৮ সালে। জরুরি আইনের সরকারের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বেশ কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ থেকে তখন বলা হয়েছিল, মামলাগুলো বিচারে কোনো বাধা নেই। এর মধ্যে ছিল মিগ ২৯ ক্রয়ে দুর্নীতির মামলা এবং ফ্রিগেট ক্রয়ে দুর্নীতির মামলা। এছাড়া বেশ কয়েকটি চাঁদাবাজির মামলা ছিল তার বিরুদ্ধে। মামলাগুলোতে চার্জশিট দিয়ে চার্জ গঠন করা হয়েছিল। বিচারে সাক্ষীও শুরু হয়েছিল একাধিক মামলায়। এই অবস্থায় নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল তাকে। অসুস্থাতার কথা বলেই বিদেশে চিকিৎসার জন্য তাকে মুক্তি দিয়েছিল জরুরি আইনের সরকার। যদিও সাবজেল থেকে নির্বাহী আদেশে মুক্ত হওয়ার দু-তিন দিনের মধ্যেই তিনি বিদেশে যান চিকিৎসার জন্য।

তিনি বলেন, নির্বাহী আদেশে শেখ হাসিনার মুক্তির পরও একটি চাঁদাবাজির মামলায় ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছিল। এই মামলাটিতে জামিনের আবেদন হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপিল বিভাগেও খারিজ করা হয়েছিল। তিনি নির্বাচনের আগে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছিলেন একজন ওয়ারেন্টের আসামি হিসাবে এবং প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথও নিয়েছিলেন ওয়ারেন্টের আসামি থাকা অবস্থায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন-বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু প্রমুখ।