ঢাকা ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে পোল্ট্রি শিল্পে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব,মারা যাচ্ছে মুরগি,কমেছে ডিম ও মাংসের উৎপাদন

হেলালুর রহমান জুয়েল:
  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪ ৫৫ বার পঠিত

গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে পাবনার চাটমোহরে পোল্ট্রি শিল্পে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গরমের কারণে হিটট্্েরাকে খামারের মুরগি মারা যাচ্ছে। গত ১৫ দিনে বেশি সময় ধরে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ। গরমে স্বস্তি নেই জনজীবনে। বিরূপ প্রভাব পড়েছে কৃষি ও পোল্ট্রি খামারে। টানা ১০ দিন ধরে পাবনার চাটমোহরের তাপমাত্রা রয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর। এমন পরিস্থিতিতে বিরুপ প্রভাব পড়েছে এ উপজেলার পোল্ট্রি শিল্পে। মারা যাচ্ছে পোলট্রি খামারের মুরগি। কমতে শুরু করেছে মাংস ও ডিমের উৎপাদন। খামারিরা মুরগি রক্ষায় খামারের ঘর সার্বক্ষনিক শীতল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। দিনে ৪/৫ বার পানি স্প্রে করছেন। এছাড়া মুরগি বাঁচানোর জন্য স্যালাইনসহ বিভিন্ন ওষুধ খাওয়াচ্ছেন। বিরুপ আবহাওয়ার কারণে ডিম ও মাংসের উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলে জানালেন একাধিক খামারি। তারা বললেন,এ অবস্থায় ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম কমে গেছে। প্রতি পিস ডিমে তাদের প্রায় ২ টাকা করে লোকসান হচ্ছে। একটি ডিম উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ১০ টাকা,সেখানে বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে সাড়ে ৮ টাকায়। খামারে উৎপাদিত ব্রয়লার মুরগির দামও কমেছে। এক কেজি ব্রয়লার উৎপাদনে খরচ হয় ১৭০ টাকা,সেখানে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। কেজিতে ২০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে তাদের দাবি। এ অবস্থা আরো কয়েকদিন থাকলে পোল্ট্রি শিল্পে ধব নামবে।
পোলট্রি খামারিদের ভাষ্য,প্রচন্ড তাপপ্রবাহের কারণে মুরগি মারা যাচ্ছে। কারণ প্রতিটি খামারের চাল টিনের। আর রোদের তাপ টিনে বেশি লাগছে। যে কারণে মুরগির গরমও লাগছে বেশি। এই গরমে মুরগির শরীরে পানি ছিটিয়েও কাজ হচ্ছে না। হিটস্ট্রোক করেই মারা যাচ্ছে মুরগি।
রোববার (২৮ এপ্রিল) কয়েকটি খামার ঘুরে দেখা গেছে,খামারের মুরগি প্রচন্ড গরমে ছটফট করছে। মুরগিগুলো হাঁসফাঁস করছে গরমে।
একটি পোলট্রি খামারের শ্রমিক আনিসুর রহমান বলেন,গরম শুরুর পর থেকেই খামারে মুরগির ছটফটানি শুরু হয়েছে। ফ্যানের বাতাসেও ঘর ঠান্ডা হচ্ছে না। প্রতিদিন কয়েকবার করে মুরগির শরীরে পানি ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এরপরও মুরগি মারা যাচ্ছে।
উপজেলার বোঁথর গ্রামের লেয়ার মুরগি খামারী আঃ মমিন বলেন,গরম শুরুর পর থেকে মুরগিকে ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারও কম দেওয়া হচ্ছে। এতে ডিমের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। গরমে স্ট্রোক করে মুরগি মারা যাচ্ছে। এমন তাপ থাকলে আমরা শেষ হয়ে যাবো। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।
চাটমোহর উপজেলা পোল্ট্রি খামার মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম বললেন,গরমে পোল্ট্রি শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। মুরগি হিটন্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। তার নিজের খামারের ৮০০ মুরগি মারা গেছে। অনেকেরই খামারের মুরগি মারা গেছে। তিনি জানান,খাদ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফলে উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে না পেরে লোকসান দিয়ে অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে না পেলে খামার বন্ধ করে এলাকা ছেড়েছে। গরমে পোল্ট্রি শিল্পে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,চাটমোহর উপজেলায় তালিকাভুক্ত মুরগির খামার রয়েছে ১ হাজার ৬০২টি। এই তালিকার বাইরে ২ শতাধিক খামার আছে। ব্রয়লার মুরগির তালিকাভুক্ত খামার রয়েছে ৮৭৭টি। এছাড়া দেশি মুরগির খামারও রয়েছে এ উপজেলায়।
চাটমোহর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ স্বপন কুমার সরকার বলেন, প্রচন্ড গরম থেকে খামার রক্ষায় প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণসহ খামারিদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। খামার ঘরের টিনের চালে চটের বস্তা বিছিয়ে পানি ঢালা,মুরগির শরীরে পানি ছিটানো এবং মুরগিকে স্যালাইনসহ ভিটামিন সি জাতীয় খাবার বেশি খেতে দিতে বলা হচ্ছে। দুপুরে অতিরিক্ত গরমের সময় খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মুরগি মারা যাওয়ার বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছি। তবে কোন সঠিক তথ্য আমাদের কেউ জানায়নি।

ট্যাগস :
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক আমাদের বড়াল
কারিগরি সহযোগিতায় : Md. Masud Rana

গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে পোল্ট্রি শিল্পে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব,মারা যাচ্ছে মুরগি,কমেছে ডিম ও মাংসের উৎপাদন

আপডেট সময় : ০৫:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪

গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে পাবনার চাটমোহরে পোল্ট্রি শিল্পে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গরমের কারণে হিটট্্েরাকে খামারের মুরগি মারা যাচ্ছে। গত ১৫ দিনে বেশি সময় ধরে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ। গরমে স্বস্তি নেই জনজীবনে। বিরূপ প্রভাব পড়েছে কৃষি ও পোল্ট্রি খামারে। টানা ১০ দিন ধরে পাবনার চাটমোহরের তাপমাত্রা রয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর। এমন পরিস্থিতিতে বিরুপ প্রভাব পড়েছে এ উপজেলার পোল্ট্রি শিল্পে। মারা যাচ্ছে পোলট্রি খামারের মুরগি। কমতে শুরু করেছে মাংস ও ডিমের উৎপাদন। খামারিরা মুরগি রক্ষায় খামারের ঘর সার্বক্ষনিক শীতল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। দিনে ৪/৫ বার পানি স্প্রে করছেন। এছাড়া মুরগি বাঁচানোর জন্য স্যালাইনসহ বিভিন্ন ওষুধ খাওয়াচ্ছেন। বিরুপ আবহাওয়ার কারণে ডিম ও মাংসের উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলে জানালেন একাধিক খামারি। তারা বললেন,এ অবস্থায় ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম কমে গেছে। প্রতি পিস ডিমে তাদের প্রায় ২ টাকা করে লোকসান হচ্ছে। একটি ডিম উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ১০ টাকা,সেখানে বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে সাড়ে ৮ টাকায়। খামারে উৎপাদিত ব্রয়লার মুরগির দামও কমেছে। এক কেজি ব্রয়লার উৎপাদনে খরচ হয় ১৭০ টাকা,সেখানে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। কেজিতে ২০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে তাদের দাবি। এ অবস্থা আরো কয়েকদিন থাকলে পোল্ট্রি শিল্পে ধব নামবে।
পোলট্রি খামারিদের ভাষ্য,প্রচন্ড তাপপ্রবাহের কারণে মুরগি মারা যাচ্ছে। কারণ প্রতিটি খামারের চাল টিনের। আর রোদের তাপ টিনে বেশি লাগছে। যে কারণে মুরগির গরমও লাগছে বেশি। এই গরমে মুরগির শরীরে পানি ছিটিয়েও কাজ হচ্ছে না। হিটস্ট্রোক করেই মারা যাচ্ছে মুরগি।
রোববার (২৮ এপ্রিল) কয়েকটি খামার ঘুরে দেখা গেছে,খামারের মুরগি প্রচন্ড গরমে ছটফট করছে। মুরগিগুলো হাঁসফাঁস করছে গরমে।
একটি পোলট্রি খামারের শ্রমিক আনিসুর রহমান বলেন,গরম শুরুর পর থেকেই খামারে মুরগির ছটফটানি শুরু হয়েছে। ফ্যানের বাতাসেও ঘর ঠান্ডা হচ্ছে না। প্রতিদিন কয়েকবার করে মুরগির শরীরে পানি ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এরপরও মুরগি মারা যাচ্ছে।
উপজেলার বোঁথর গ্রামের লেয়ার মুরগি খামারী আঃ মমিন বলেন,গরম শুরুর পর থেকে মুরগিকে ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারও কম দেওয়া হচ্ছে। এতে ডিমের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। গরমে স্ট্রোক করে মুরগি মারা যাচ্ছে। এমন তাপ থাকলে আমরা শেষ হয়ে যাবো। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।
চাটমোহর উপজেলা পোল্ট্রি খামার মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম বললেন,গরমে পোল্ট্রি শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। মুরগি হিটন্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। তার নিজের খামারের ৮০০ মুরগি মারা গেছে। অনেকেরই খামারের মুরগি মারা গেছে। তিনি জানান,খাদ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফলে উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে না পেরে লোকসান দিয়ে অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে না পেলে খামার বন্ধ করে এলাকা ছেড়েছে। গরমে পোল্ট্রি শিল্পে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,চাটমোহর উপজেলায় তালিকাভুক্ত মুরগির খামার রয়েছে ১ হাজার ৬০২টি। এই তালিকার বাইরে ২ শতাধিক খামার আছে। ব্রয়লার মুরগির তালিকাভুক্ত খামার রয়েছে ৮৭৭টি। এছাড়া দেশি মুরগির খামারও রয়েছে এ উপজেলায়।
চাটমোহর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ স্বপন কুমার সরকার বলেন, প্রচন্ড গরম থেকে খামার রক্ষায় প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণসহ খামারিদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। খামার ঘরের টিনের চালে চটের বস্তা বিছিয়ে পানি ঢালা,মুরগির শরীরে পানি ছিটানো এবং মুরগিকে স্যালাইনসহ ভিটামিন সি জাতীয় খাবার বেশি খেতে দিতে বলা হচ্ছে। দুপুরে অতিরিক্ত গরমের সময় খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মুরগি মারা যাওয়ার বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছি। তবে কোন সঠিক তথ্য আমাদের কেউ জানায়নি।