ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাটমোহরের ইউএনও ও এএসপি’র বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী

বিশেষ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:১১:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ ৪২৩ বার পঠিত

পাবনার চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী পুলিশ সুপারের (চাটমোহর সার্কেল) বিরুদ্ধে নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন পাবনা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আঃ হামিদ মাস্টার। শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাঁর চাটমোহরস্থ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। তিনি ইউএনও মোঃ রেদুয়ানুল হালিম ও এএসপি মোঃ হাবিবুল ইসলামের প্রত্যাহারও চান। ট্রাক প্রতিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন চাটমোহর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হামিদ মাস্টার।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙ্চুর,পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা,কর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিষ্ক্রিয়তা এবং ফোন রিসিভ না করার অভিযোগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন,ইউএনও নৌকার কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন এবং সহযোগিতা করছেন। এছাড়া এএসপি নৌকার প্রার্থীর প্রচারকালে সেখানে উপস্থিত হয়ে সহযোগিতা করেছেন। তিনি বলেন,৭ জানুয়ারির নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে বারবার নির্দেশনা দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ইউএনও এবং এএসপি পক্ষপাতিত্ব করছেন। তারা থাকলে চাটমোহরে কোনভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবেনা। তাই আমি তাদের প্রত্যাহার দাবি করছি।
ট্রাক প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হামিদ মাস্টার অভিযোগ করেন,শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের খৈরাশ গ্রামের কাঁচা সড়কে নৌকার কর্মীরা ট্রাকের কর্মী ও প্রার্থীর উপর হামলা করেছে। হামলাকারীরা ১৫/২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে নৌকার শ্লোগান দেয়। তারা লাঠিসোটা নিয়ে আক্রমণ করে। তিনি আরো বলেন,আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ট্রাকের ভোট চেয়ে গণসংযোগ করছিলাম। এসময় নৌকার কর্মীরা আমাদের উপর হামলা করে। তিনি বলেন,আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। নৌকার সশস্ত্র কর্মীরা আমাদের নানাভাবে বাধা দেওয়াসহ হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।
তিনি বলেন,‘প্রায় প্রতিদিনই আমিসহ আমার কর্মি সমর্থক অনুসারীরা নানা হুমকি ধামকি ও জীবনের নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি কোন অভিযোগ দিলে সেটা গুরুত্বের সাথে আমলে নেয়া হচ্ছে না। স্থানীয় বালুচর খেলার মাঠে নির্বাচনী সভা করার অনুমতি চাইলেও তারা সে অনুমতি প্রদানের নানা ধরণের টালবাহানা করছেন।’‘সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চাটমোহর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার আগাগোড়াই পক্ষপাতমূলক আচরণ করে আসছেন।
হামিদ মাস্টার বলেন,আমার জনপ্রিয়তা ও ভোটের জোয়ারে নৌকার প্রার্থী দিশেহারা হয়ে একের পর এক নগ্ন ষড়যন্তে লিপ্ত আছে। আমি তার এ ধরণের নাশকতামূলক কর্মকান্ড বন্ধের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে শান্তিপূর্ন ও অংশগ্রহণমুলক ও গ্রহণযোগ্য ভোট করতে প্রধানমন্ত্রীর যে নির্দেশনা তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেদুয়ানুল হালিম বলেন,খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমি পুলিশ কর্মকর্তাসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ সত্য নয়।’
চাটমোহর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার হাবিবুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি কি কারণে এসব অভিযোগ করছেন জানি না। কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে না। আমরা প্রার্থীদের অভিযোগ পেলে সাথে সাথে পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
এ বিষয়ে পাবনা-৩ আসনের নৌকার প্রার্থী বর্তমান এমপি মোঃ মকবুল হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ মিথ্যে দাবি করে বলেন,স্বতন্ত্র প্রার্থী ৪/৫টি হাইস মাইক্রোবাস ও বেশ কিছু মোটরসাইকেল নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় প্রচারণায় নামছে। এলাকায় এলাকায় হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। খৈরাশ গ্রামে নৌকার সমর্থকদেরই ৫টি মোটরসাইকেল ভাঙ্চুর করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগও দিয়েছি।

ট্যাগস :

চাটমোহরের ইউএনও ও এএসপি’র বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী

আপডেট সময় : ০৪:১১:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩

পাবনার চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী পুলিশ সুপারের (চাটমোহর সার্কেল) বিরুদ্ধে নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন পাবনা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আঃ হামিদ মাস্টার। শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাঁর চাটমোহরস্থ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। তিনি ইউএনও মোঃ রেদুয়ানুল হালিম ও এএসপি মোঃ হাবিবুল ইসলামের প্রত্যাহারও চান। ট্রাক প্রতিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন চাটমোহর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হামিদ মাস্টার।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙ্চুর,পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা,কর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিষ্ক্রিয়তা এবং ফোন রিসিভ না করার অভিযোগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন,ইউএনও নৌকার কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন এবং সহযোগিতা করছেন। এছাড়া এএসপি নৌকার প্রার্থীর প্রচারকালে সেখানে উপস্থিত হয়ে সহযোগিতা করেছেন। তিনি বলেন,৭ জানুয়ারির নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে বারবার নির্দেশনা দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ইউএনও এবং এএসপি পক্ষপাতিত্ব করছেন। তারা থাকলে চাটমোহরে কোনভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবেনা। তাই আমি তাদের প্রত্যাহার দাবি করছি।
ট্রাক প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হামিদ মাস্টার অভিযোগ করেন,শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের খৈরাশ গ্রামের কাঁচা সড়কে নৌকার কর্মীরা ট্রাকের কর্মী ও প্রার্থীর উপর হামলা করেছে। হামলাকারীরা ১৫/২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে নৌকার শ্লোগান দেয়। তারা লাঠিসোটা নিয়ে আক্রমণ করে। তিনি আরো বলেন,আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ট্রাকের ভোট চেয়ে গণসংযোগ করছিলাম। এসময় নৌকার কর্মীরা আমাদের উপর হামলা করে। তিনি বলেন,আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। নৌকার সশস্ত্র কর্মীরা আমাদের নানাভাবে বাধা দেওয়াসহ হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।
তিনি বলেন,‘প্রায় প্রতিদিনই আমিসহ আমার কর্মি সমর্থক অনুসারীরা নানা হুমকি ধামকি ও জীবনের নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি কোন অভিযোগ দিলে সেটা গুরুত্বের সাথে আমলে নেয়া হচ্ছে না। স্থানীয় বালুচর খেলার মাঠে নির্বাচনী সভা করার অনুমতি চাইলেও তারা সে অনুমতি প্রদানের নানা ধরণের টালবাহানা করছেন।’‘সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চাটমোহর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার আগাগোড়াই পক্ষপাতমূলক আচরণ করে আসছেন।
হামিদ মাস্টার বলেন,আমার জনপ্রিয়তা ও ভোটের জোয়ারে নৌকার প্রার্থী দিশেহারা হয়ে একের পর এক নগ্ন ষড়যন্তে লিপ্ত আছে। আমি তার এ ধরণের নাশকতামূলক কর্মকান্ড বন্ধের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে শান্তিপূর্ন ও অংশগ্রহণমুলক ও গ্রহণযোগ্য ভোট করতে প্রধানমন্ত্রীর যে নির্দেশনা তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেদুয়ানুল হালিম বলেন,খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমি পুলিশ কর্মকর্তাসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ সত্য নয়।’
চাটমোহর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার হাবিবুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি কি কারণে এসব অভিযোগ করছেন জানি না। কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে না। আমরা প্রার্থীদের অভিযোগ পেলে সাথে সাথে পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
এ বিষয়ে পাবনা-৩ আসনের নৌকার প্রার্থী বর্তমান এমপি মোঃ মকবুল হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ মিথ্যে দাবি করে বলেন,স্বতন্ত্র প্রার্থী ৪/৫টি হাইস মাইক্রোবাস ও বেশ কিছু মোটরসাইকেল নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় প্রচারণায় নামছে। এলাকায় এলাকায় হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। খৈরাশ গ্রামে নৌকার সমর্থকদেরই ৫টি মোটরসাইকেল ভাঙ্চুর করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগও দিয়েছি।