ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাটমোহরে কৃষকের ঘরে ঘরে নবান্নের প্রস্তুতি, কৃষিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে সমলয় চাষ পদ্ধতি

বিশেষ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ নভেম্বর ২০২৩ ২৪৭ বার পঠিত

বিকেলের মৃদু বাতাসে দোল খাচ্ছে সোনালি ধানের শীষ।শরতের সকালে ধানের শীষে জমে থাকা মুক্তার দানার মতো শিশির বিন্দু জানান দিচ্ছে নবান্নের আগমনী বার্তা। নতুন ধান ঘরে তোলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে কৃষকের ঘরে ঘরে। নতুন ধানের ঘ্রাণ একটু আগেভাগেই পাওয়ায় অন্য রকম আনন্দ বয়ে যাচ্ছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের কৃষকদের মাঝে। সমলয় পদ্ধতিতে ধান রোপণ করে সফল হওয়ায় এ গ্রামের ৭৫ জন কৃষক নতুন অভিজ্ঞতায় দারুন উচ্ছ্বসিত। সরেজমিনে মথুরাপুর গ্রামে গিয়ে চোখে পড়ে সমলয় ধান চাষের মনোরম দৃশ্য।
কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ এলাকার কৃষক ১৫০ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন বিনা ধান-১৭ জাতের রোপা আমন। চাষ পদ্ধতিতে যান্ত্রিকীকরণের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক সকল প্রযুক্তি। সমলয় পদ্ধতিতে রোপণ করা ৫০ একর জমির ধান পাকতে শুরু করেছে একসাথে।এ সপ্তাহেই ধান কাটা শুরু হবে।
সমলয় চাষের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে কৃষক মামুনুর রশীদ জানান,কৃষি বিভাগ বীজ সরবরাহ থেকে শুরু করে ধান রোপণ ও সার দিয়েছেন প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায়। আগামী সপ্তাহে ধান কাটা শুরু হবে। কৃষি অফিস কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারের মাধ্যমে ধান কেটে দেবেন সরকারি ব্যবস্থাপনায়। আমরা শুধুমাত্র নিজেদের জমিতে পরিচর্যা করে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছি। এজন্য তিনি সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
একই এলাকার কৃষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন,কৃষি বিভাগ ট্রেতে বীজতলা তৈরি করে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের সাহায্য সম্পূর্ণ বিনা খরচে ধানের চারা রোপণ করে দিয়েছে। মেশিনের সহায়তায় কেটেও দেবেন তারা। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান চাষ কৃষকদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে। অন্যান মাঠের চেয়ে সমলয়ে চাষাবাদ করা কৃষকেরা বিঘা প্রতি ২ থেকে ৩ মণ বেশি ধান পাবেন বলে মনে করেন তিনি।
সমলয় পদ্ধতিতে ধান চাষ সম্পর্কে জানতে চাইলে এ ব্লকের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান সাঈদ জানান,সমলয়ে ধান চাষ পদ্ধতিতে কৃষকের সময় ও শ্রম বেঁচে গেছে। এ পদ্ধতিতে যান্ত্রিকীকরণের ব্যবহার হওয়ায় ধান চাষে খরচ অনেক কমেছে । সকল কার্যক্রম একই পদ্ধতিতে একসাথে হওয়ায় রোগ ও পোকা দমন করাও সহজ হয়। এতে করে ধান চাষের উৎপাদন খরচ কম হয় এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
সমলয় পদ্ধতিতে চাষাবাদকে যুগান্তকারী উদ্যোগ দাবি করে উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ এ মাসুম বিল্লাহ বলেন, কৃষকদেরকে যান্ত্রিকীকরণে উৎসাহিত করতে সরকারের এ উদ্যোগ এ পদ্ধতিতে সকল আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করায় উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। শ্রমিক সংকট মোকাবেলা করে উৎপাদন খরচ কমাতে যান্ত্রিকীকরণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সমলয় চাষ সফলতা পাওয়ার কারণে আগামীতে কৃষকেরা এ পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হবেন। এতে করে গ্রামবাংলার সনাতন চাষাবাদ পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে মনে করেন কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা।

ট্যাগস :

চাটমোহরে কৃষকের ঘরে ঘরে নবান্নের প্রস্তুতি, কৃষিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে সমলয় চাষ পদ্ধতি

আপডেট সময় : ০৪:৫৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ নভেম্বর ২০২৩

বিকেলের মৃদু বাতাসে দোল খাচ্ছে সোনালি ধানের শীষ।শরতের সকালে ধানের শীষে জমে থাকা মুক্তার দানার মতো শিশির বিন্দু জানান দিচ্ছে নবান্নের আগমনী বার্তা। নতুন ধান ঘরে তোলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে কৃষকের ঘরে ঘরে। নতুন ধানের ঘ্রাণ একটু আগেভাগেই পাওয়ায় অন্য রকম আনন্দ বয়ে যাচ্ছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের কৃষকদের মাঝে। সমলয় পদ্ধতিতে ধান রোপণ করে সফল হওয়ায় এ গ্রামের ৭৫ জন কৃষক নতুন অভিজ্ঞতায় দারুন উচ্ছ্বসিত। সরেজমিনে মথুরাপুর গ্রামে গিয়ে চোখে পড়ে সমলয় ধান চাষের মনোরম দৃশ্য।
কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ এলাকার কৃষক ১৫০ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন বিনা ধান-১৭ জাতের রোপা আমন। চাষ পদ্ধতিতে যান্ত্রিকীকরণের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক সকল প্রযুক্তি। সমলয় পদ্ধতিতে রোপণ করা ৫০ একর জমির ধান পাকতে শুরু করেছে একসাথে।এ সপ্তাহেই ধান কাটা শুরু হবে।
সমলয় চাষের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে কৃষক মামুনুর রশীদ জানান,কৃষি বিভাগ বীজ সরবরাহ থেকে শুরু করে ধান রোপণ ও সার দিয়েছেন প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায়। আগামী সপ্তাহে ধান কাটা শুরু হবে। কৃষি অফিস কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারের মাধ্যমে ধান কেটে দেবেন সরকারি ব্যবস্থাপনায়। আমরা শুধুমাত্র নিজেদের জমিতে পরিচর্যা করে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছি। এজন্য তিনি সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
একই এলাকার কৃষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন,কৃষি বিভাগ ট্রেতে বীজতলা তৈরি করে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের সাহায্য সম্পূর্ণ বিনা খরচে ধানের চারা রোপণ করে দিয়েছে। মেশিনের সহায়তায় কেটেও দেবেন তারা। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান চাষ কৃষকদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে। অন্যান মাঠের চেয়ে সমলয়ে চাষাবাদ করা কৃষকেরা বিঘা প্রতি ২ থেকে ৩ মণ বেশি ধান পাবেন বলে মনে করেন তিনি।
সমলয় পদ্ধতিতে ধান চাষ সম্পর্কে জানতে চাইলে এ ব্লকের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান সাঈদ জানান,সমলয়ে ধান চাষ পদ্ধতিতে কৃষকের সময় ও শ্রম বেঁচে গেছে। এ পদ্ধতিতে যান্ত্রিকীকরণের ব্যবহার হওয়ায় ধান চাষে খরচ অনেক কমেছে । সকল কার্যক্রম একই পদ্ধতিতে একসাথে হওয়ায় রোগ ও পোকা দমন করাও সহজ হয়। এতে করে ধান চাষের উৎপাদন খরচ কম হয় এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
সমলয় পদ্ধতিতে চাষাবাদকে যুগান্তকারী উদ্যোগ দাবি করে উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ এ মাসুম বিল্লাহ বলেন, কৃষকদেরকে যান্ত্রিকীকরণে উৎসাহিত করতে সরকারের এ উদ্যোগ এ পদ্ধতিতে সকল আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করায় উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। শ্রমিক সংকট মোকাবেলা করে উৎপাদন খরচ কমাতে যান্ত্রিকীকরণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সমলয় চাষ সফলতা পাওয়ার কারণে আগামীতে কৃষকেরা এ পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হবেন। এতে করে গ্রামবাংলার সনাতন চাষাবাদ পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে মনে করেন কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা।