ঢাকা ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাটমোহরে নদী ও ফসলি জমিতে মাটি কাটা থামছেনা,প্রশাসন নীরব!

বড়াল প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০২৪ ৫৯ বার পঠিত

পাবনার চাটমোহরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের সামনেই প্রকাশ্যে চলছে নদী ও ফসলি জমির মাটি কাটা। পুকুর খননের নামে কাটা হচ্ছে ফসলি জমি। সেই মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত অবৈধ ইটভাটায়। ফলে ফসলি জমি কমে যাচ্ছে। নদীকে করা হচ্ছে ধ্বংস। পরিবেশ হচ্ছে বিপন্ন। উপজেলার ছাইকোলা ও নিমাইচড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন নদী,ফসলি জমি থেকে প্রতিদিন মাটি কাটা হচ্ছে। ট্রাম ও ট্রলি বোঝাই করে এসব মাটি নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। মাটি বোঝাই যানবাহন চলাচলের কারণে বিনষ্ট হচ্ছে সরকারি সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তা। এলাকার জনগণ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। অসহায় জীবন যাপন করছেন তারা। প্রশাসনের নাকের ডগায় এহেন কর্মকান্ড পরিচালিত হলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন নীরব রয়েছে।
এদিকে নদী ও গাঙের মাটি কাটা বন্ধের আবেদন জানিয়ে বারবার স্থানীয় প্রশাসনকে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বড়াল রক্ষা আন্দোলনের পক্ষ থেকে আবেদনপত্র দিলেও প্রশাসন কোন রকম ভ্রুক্ষেপ করেনি।
এছাড়া গুমানী ও বড়াল নদী ও নিমাইচড়া গাঙে অবৈধভাবে মাটি ও বালি কাটার বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষনা দিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বড়াল রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
গত শুক্রবার (৩ মে) সকাল সাড়ে ১০ টায় চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নে কুমারগাড়া গ্রামে বড়াল বিদ্যা নিকেতন চত্বরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এ ঘোষণা দেন। বাপা ও বড়াল রক্ষা আন্দোলন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সদস্য জয়দেব কুন্ডু। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন,বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সজিব এস এম মিজানুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়,চাটমোহরের গুমানী ও বড়াল নদী এবং নিমাইচড়া গাঙে এলাকার প্রভাবশালী নদী খেকো গোষ্ঠী কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দিনে রাতে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করে নদীর অবকাঠামো ধ্বংস করাসহ পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে এনেছে। বাপা ও বড়াল রক্ষা আন্দোলন এবং চলনবিল রক্ষা আন্দোলনের পক্ষ থেকে বারবার উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে মাটি কাটা বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানানো হয়। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন উদ্যোগী হয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করে নাই।
সংবাদ সম্মেলনে নদীর মাটি ও বালি উত্তোলনকারী ও দখল দূষণকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের দাবি জানানো হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো রেদুয়ানুল হালিম প্রতিবারের মতো রবিবার (৫ মে) বলেন,আমরা বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে এক্সেভেটরের ব্যাটারি খুলে নিয়ে এসেছি। এ বিষয়ে অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

চাটমোহরে নদী ও ফসলি জমিতে মাটি কাটা থামছেনা,প্রশাসন নীরব!

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০২৪

পাবনার চাটমোহরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের সামনেই প্রকাশ্যে চলছে নদী ও ফসলি জমির মাটি কাটা। পুকুর খননের নামে কাটা হচ্ছে ফসলি জমি। সেই মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত অবৈধ ইটভাটায়। ফলে ফসলি জমি কমে যাচ্ছে। নদীকে করা হচ্ছে ধ্বংস। পরিবেশ হচ্ছে বিপন্ন। উপজেলার ছাইকোলা ও নিমাইচড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন নদী,ফসলি জমি থেকে প্রতিদিন মাটি কাটা হচ্ছে। ট্রাম ও ট্রলি বোঝাই করে এসব মাটি নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। মাটি বোঝাই যানবাহন চলাচলের কারণে বিনষ্ট হচ্ছে সরকারি সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তা। এলাকার জনগণ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। অসহায় জীবন যাপন করছেন তারা। প্রশাসনের নাকের ডগায় এহেন কর্মকান্ড পরিচালিত হলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন নীরব রয়েছে।
এদিকে নদী ও গাঙের মাটি কাটা বন্ধের আবেদন জানিয়ে বারবার স্থানীয় প্রশাসনকে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বড়াল রক্ষা আন্দোলনের পক্ষ থেকে আবেদনপত্র দিলেও প্রশাসন কোন রকম ভ্রুক্ষেপ করেনি।
এছাড়া গুমানী ও বড়াল নদী ও নিমাইচড়া গাঙে অবৈধভাবে মাটি ও বালি কাটার বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষনা দিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বড়াল রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
গত শুক্রবার (৩ মে) সকাল সাড়ে ১০ টায় চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নে কুমারগাড়া গ্রামে বড়াল বিদ্যা নিকেতন চত্বরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এ ঘোষণা দেন। বাপা ও বড়াল রক্ষা আন্দোলন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সদস্য জয়দেব কুন্ডু। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন,বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সজিব এস এম মিজানুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়,চাটমোহরের গুমানী ও বড়াল নদী এবং নিমাইচড়া গাঙে এলাকার প্রভাবশালী নদী খেকো গোষ্ঠী কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দিনে রাতে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করে নদীর অবকাঠামো ধ্বংস করাসহ পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে এনেছে। বাপা ও বড়াল রক্ষা আন্দোলন এবং চলনবিল রক্ষা আন্দোলনের পক্ষ থেকে বারবার উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে মাটি কাটা বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানানো হয়। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন উদ্যোগী হয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করে নাই।
সংবাদ সম্মেলনে নদীর মাটি ও বালি উত্তোলনকারী ও দখল দূষণকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের দাবি জানানো হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো রেদুয়ানুল হালিম প্রতিবারের মতো রবিবার (৫ মে) বলেন,আমরা বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে এক্সেভেটরের ব্যাটারি খুলে নিয়ে এসেছি। এ বিষয়ে অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।