ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নাটোরে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে যুবকের ৬০ বছরের কারাদণ্ড

নাটোর প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ২০৯ বার পঠিত

নাটোরের নলডাঙ্গায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের দায়ে মো. হাফিজুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ৬০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় দেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আনিসুর রহমান। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. হাফিজুল ইসলাম নলডাঙ্গার বাঙ্গালখলসী এলাকার মো. ইমান আলীর ছেলে।
মামলার বরাতে আইনজীবী আনিসুর রহমান বলেন, দুই সন্তানের জনক হাফিজুল ইসলাম ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত এবং কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযুক্তের পরিবারকে জানালে কোনো সুরাহা না করে ভুক্তভোগীকে অপহরণের চেষ্টায় থাকে হাফিজুল। ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বের হলে তার মুখ চেপে ধরে অপহরণ করে প্রথমে নাটোর, পরে যশোরে নিয়ে যায় হাফিজুল। এদিকে,পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুজি করে মেয়েকে না পেয়ে পরদিন তিনজনের নাম উল্লেখ করে নলডাঙ্গা থানায় ভুক্তভোগীর বাবা মামলা করেন। অপরদিকে, যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভুক্তভোগীকে ভারতে পাচারের চেষ্টা করে হাফিজুল। কিন্তু অবস্থা ভালো না থাকায় ভুক্তভোগীকে নিয়ে ঢাকায় নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর আবারও ভুক্তভোগীকে ভারতে পাচারের জন্য যশোরে নিয়ে গেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল হোসেন খবর পেয়ে যশোরের কোতোয়ালি থানা পুলিশের সহযোগিতায় আসামিকে গ্রেপ্তার করে এবং ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর দুই ও তিন নম্বর আসামি মো. সিরাজ ও মো. সিদ্দিককে ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এবং প্রধান আসামি মো. হাফিজুল ইসলামকে ২১ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে মো. হাফিজুল ইসলাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। একই আইনের ৭ ধারায় হাফিজুলের বিরুদ্ধে আবারও একই সাজা ও জরিমানার আদেশ দেন বিচারক।
যাবজ্জীবনের দুইটি আদেশ অনুযায়ী হাফিজুল ইসলামকে ৬০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে এবং জরিমানার ৪০ হাজার টাকা ভুক্তভোগী পাবেন বলে জানান এই আইনজীবী।

ট্যাগস :

নাটোরে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে যুবকের ৬০ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

নাটোরের নলডাঙ্গায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের দায়ে মো. হাফিজুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ৬০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় দেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আনিসুর রহমান। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. হাফিজুল ইসলাম নলডাঙ্গার বাঙ্গালখলসী এলাকার মো. ইমান আলীর ছেলে।
মামলার বরাতে আইনজীবী আনিসুর রহমান বলেন, দুই সন্তানের জনক হাফিজুল ইসলাম ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত এবং কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযুক্তের পরিবারকে জানালে কোনো সুরাহা না করে ভুক্তভোগীকে অপহরণের চেষ্টায় থাকে হাফিজুল। ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বের হলে তার মুখ চেপে ধরে অপহরণ করে প্রথমে নাটোর, পরে যশোরে নিয়ে যায় হাফিজুল। এদিকে,পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুজি করে মেয়েকে না পেয়ে পরদিন তিনজনের নাম উল্লেখ করে নলডাঙ্গা থানায় ভুক্তভোগীর বাবা মামলা করেন। অপরদিকে, যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভুক্তভোগীকে ভারতে পাচারের চেষ্টা করে হাফিজুল। কিন্তু অবস্থা ভালো না থাকায় ভুক্তভোগীকে নিয়ে ঢাকায় নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর আবারও ভুক্তভোগীকে ভারতে পাচারের জন্য যশোরে নিয়ে গেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল হোসেন খবর পেয়ে যশোরের কোতোয়ালি থানা পুলিশের সহযোগিতায় আসামিকে গ্রেপ্তার করে এবং ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর দুই ও তিন নম্বর আসামি মো. সিরাজ ও মো. সিদ্দিককে ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এবং প্রধান আসামি মো. হাফিজুল ইসলামকে ২১ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে মো. হাফিজুল ইসলাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। একই আইনের ৭ ধারায় হাফিজুলের বিরুদ্ধে আবারও একই সাজা ও জরিমানার আদেশ দেন বিচারক।
যাবজ্জীবনের দুইটি আদেশ অনুযায়ী হাফিজুল ইসলামকে ৬০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে এবং জরিমানার ৪০ হাজার টাকা ভুক্তভোগী পাবেন বলে জানান এই আইনজীবী।