ঢাকা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পাবনা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ তাঁর কর্মী, সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য

বড়াল প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০৫:৪০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৬০ বার পঠিত

পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী,পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের নেতা,চাটমোহর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আঃ হামিদ মাস্টার অভিযোগ করে বলেছেন,পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও নৌকার প্রার্থী মোঃ মকবুল হোসেন আমার কর্মী-সমর্থকদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। ফোন করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে বলেছেন,তোমরা যদি হামিদ মাস্টারের পক্ষে কাজ কর,তাহলে তোমাকে শায়েস্থা করা হবে। নিশ্চিত পরাজয়ের ভয়ে তিনি হুমকি দিচ্ছেন।
মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় তাঁর চাটমোহরস্থ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন,মহান বিজয় দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি সভার নামে চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগ উপজেলার সকল ইউনিয়নে বর্ধিত সভা করছে। সেখানে খিচুড়ি রান্না করে নেতা-কর্মীরা খাওংয়া দাওয়া করে নৌকার পক্ষে সমাবেশ করছেন,যা নির্বাচনী আচরণবিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। ইতোপূর্বে নির্বাচনে অনুসন্ধান কমিটির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এই সভা করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু তা মানা হচ্ছেনা। আঃ হামিদ মাস্টার বলেন,চাটমোহর,ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ৮০ ভাগ কর্মী-সমর্থক আমার পক্ষে আছেন। কারণ বিগত ১৫ বছরে এমপি ও এমপির ছেলেদের কর্মকান্ডে ফুঁসে উঠেছে মানুষ। এ এলাকার মানুষকে তারা জিম্মি করে রেখেছিল। তাছাড়া পাবনা থেকে কতিপয় নেতাকে নিয়ে এসে,চাটমোহর ও ফরিদপুরের দু’একজনকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দেওয়ানো হচ্ছে। আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে,এখানে নৌকার প্রার্থী ছাড়া নাকি কেউ নির্বাচন করতে পারবেনা। তারা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আরো বলেন,আমি বিদ্রোহী প্রার্থী নই,স্বতন্ত্র প্রার্থী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,জননেত্রী শেখ হাসিনা কখনও মিথ্যে কথা বলেন না। তাঁর নির্দেশিত পথেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে এবং ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আনতেই আমাদের এই প্রয়াস। তিনি বলেন,আমি আওয়ামী লীগে ছিলাম,আছি এবং থাকবো।
সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আঃ হামিদ মাস্টার বলেন,পাবনা-৩ আসনে যে অন্যায়-অত্যাচার হয়েছে,তার বিরুদ্ধে মানুষ অবস্থান নিয়েছেন। মানুষ নৌকার বিরুদ্ধে,আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন না। অবস্থান নিচ্ছেন এমপি ও এমপি’র ছেলের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। মানুষকে অবজ্ঞা করা,অসম্মানিত করার ফলে মানুষ এবার আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন। আমি আশা করি নির্বাচন হবে সুষ্ঠু,নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবো ইনশাল্লাহ।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আঃ হামিদ মাস্টারের অভিযোগের বিষয়ে পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোঃ মকবুল হোসেন দৈনিক আমাদের বড়ালকে বলেন,পাবনা-৩ আসনে আমাকে নৌকা দিয়েছেন আমার নেত্রী শেখ হাসিনা। আমি বিগত ১৫ বছরে কী করেছি,এলাকার মানুষের জন্য কতটুকু করেছি,তোমরা তা জানো। উনি (স্বতন্ত্র প্রার্থী) যে অভিযোগ করেছেন,তার জন্য তাঁকে বলো,কাকে বা কাদের হুমকি দিয়েছি,তাদের মোবাইল নম্বর নিয়ে তোমরা (সাংবাদিক) কথা বলো। অভিযোগ সত্য হলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিতে বলো। তিনি বলেন,আমি নির্বাচনী আচরণ বিধি সম্পূর্ণরুপে মেনে চলছি। আমি ঘরে বসে আছি,বের হচ্ছিনা। কেউ দেখা করতে এলে,তাদের বলছি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে।

ট্যাগস :

পাবনা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ তাঁর কর্মী, সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য

আপডেট সময় : ০৫:৪০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৩

পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী,পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের নেতা,চাটমোহর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আঃ হামিদ মাস্টার অভিযোগ করে বলেছেন,পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও নৌকার প্রার্থী মোঃ মকবুল হোসেন আমার কর্মী-সমর্থকদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। ফোন করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে বলেছেন,তোমরা যদি হামিদ মাস্টারের পক্ষে কাজ কর,তাহলে তোমাকে শায়েস্থা করা হবে। নিশ্চিত পরাজয়ের ভয়ে তিনি হুমকি দিচ্ছেন।
মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় তাঁর চাটমোহরস্থ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন,মহান বিজয় দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি সভার নামে চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগ উপজেলার সকল ইউনিয়নে বর্ধিত সভা করছে। সেখানে খিচুড়ি রান্না করে নেতা-কর্মীরা খাওংয়া দাওয়া করে নৌকার পক্ষে সমাবেশ করছেন,যা নির্বাচনী আচরণবিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। ইতোপূর্বে নির্বাচনে অনুসন্ধান কমিটির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এই সভা করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু তা মানা হচ্ছেনা। আঃ হামিদ মাস্টার বলেন,চাটমোহর,ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ৮০ ভাগ কর্মী-সমর্থক আমার পক্ষে আছেন। কারণ বিগত ১৫ বছরে এমপি ও এমপির ছেলেদের কর্মকান্ডে ফুঁসে উঠেছে মানুষ। এ এলাকার মানুষকে তারা জিম্মি করে রেখেছিল। তাছাড়া পাবনা থেকে কতিপয় নেতাকে নিয়ে এসে,চাটমোহর ও ফরিদপুরের দু’একজনকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দেওয়ানো হচ্ছে। আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে,এখানে নৌকার প্রার্থী ছাড়া নাকি কেউ নির্বাচন করতে পারবেনা। তারা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আরো বলেন,আমি বিদ্রোহী প্রার্থী নই,স্বতন্ত্র প্রার্থী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,জননেত্রী শেখ হাসিনা কখনও মিথ্যে কথা বলেন না। তাঁর নির্দেশিত পথেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে এবং ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আনতেই আমাদের এই প্রয়াস। তিনি বলেন,আমি আওয়ামী লীগে ছিলাম,আছি এবং থাকবো।
সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আঃ হামিদ মাস্টার বলেন,পাবনা-৩ আসনে যে অন্যায়-অত্যাচার হয়েছে,তার বিরুদ্ধে মানুষ অবস্থান নিয়েছেন। মানুষ নৌকার বিরুদ্ধে,আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন না। অবস্থান নিচ্ছেন এমপি ও এমপি’র ছেলের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। মানুষকে অবজ্ঞা করা,অসম্মানিত করার ফলে মানুষ এবার আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন। আমি আশা করি নির্বাচন হবে সুষ্ঠু,নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবো ইনশাল্লাহ।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আঃ হামিদ মাস্টারের অভিযোগের বিষয়ে পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোঃ মকবুল হোসেন দৈনিক আমাদের বড়ালকে বলেন,পাবনা-৩ আসনে আমাকে নৌকা দিয়েছেন আমার নেত্রী শেখ হাসিনা। আমি বিগত ১৫ বছরে কী করেছি,এলাকার মানুষের জন্য কতটুকু করেছি,তোমরা তা জানো। উনি (স্বতন্ত্র প্রার্থী) যে অভিযোগ করেছেন,তার জন্য তাঁকে বলো,কাকে বা কাদের হুমকি দিয়েছি,তাদের মোবাইল নম্বর নিয়ে তোমরা (সাংবাদিক) কথা বলো। অভিযোগ সত্য হলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিতে বলো। তিনি বলেন,আমি নির্বাচনী আচরণ বিধি সম্পূর্ণরুপে মেনে চলছি। আমি ঘরে বসে আছি,বের হচ্ছিনা। কেউ দেখা করতে এলে,তাদের বলছি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে।