ঢাকা ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বড়াইগ্রামে নিয়োগ বন্ধের দাবিতে মাদরাসা ঘেরাও,অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ৬২ বার পঠিত

নাটোরের বড়াইগ্রামে নিয়োগ বন্ধের দাবিতে মাদরাসা ঘেরাও করে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত ও শ্রেণীকক্ষে অবরুদ্ধ রাখার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিপুল অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে আতœীয়-স্বজনসহ পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগে মাদরাসা চত্ত্বরে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা। পরে অধ্যক্ষ নিয়োগ বন্ধ রাখার প্রকাশ্য ঘোষণা দেয়াসহ লিখিত নোটিশ দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে আন্দোলনকারীরা অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে, মাত্র এক সপ্তাহ আগে একই কারণ দেখিয়ে উপজেলার কচুগাড়ি ফকিরবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়োগও বন্ধ করে দেয়া হয় বলে জানা গেছে।
মাদরাসা সুত্রে জানা যায়,উপজেলার ইসলামপুর গুণাইহাটি সিনিয়র মাদরাসায় শুন্য ও সৃষ্টপদে দুই জন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও একজন নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের জন্য ১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার লিখিত পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। গত বুধবার দুপুরে অধ্যক্ষ মাওলানা ওসমান গণি বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করছিলেন। এ সময় নিয়োগ বোর্ড গঠণের বিষয়টি জানাজানি হলে জহির উদ্দিন মিয়াজীর নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন বিক্ষুব্ধ আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিলসহ মাদরাসায় যান। তারা ফলাফল ঘোষণা বন্ধ রেখে অধ্যক্ষকে একটি শ্রেণীকক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং নিয়োগ বোর্ড বাতিলের জন্য চাপ দেন। এ সময় কিছু লোকজন তার চেয়ারে লাথি মারাসহ তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত ও টানাহেঁচড়া করেছেন বলে অধ্যক্ষ অভিযোগ করেন। পরে অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে অধ্যক্ষ নিয়োগ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলে নেতাকর্মীরা শান্ত হন।
এ ব্যাপারে আওয়ামীলীগ কর্মী জহির উদ্দিন মিয়াজী বলেন, মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে অধ্যক্ষ নিজের ভাতিজা ও সহ-সভাপতির ছেলেসহ পছন্দের প্রার্থীকে গোপনে বোর্ড করে নিয়োগ দেয়ার পাঁয়তারা করেছিলেন। তাই আমরা নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছি। তবে অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ রাখলেও লাঞ্ছিতের অভিযোগ সঠিক নয়।
অধ্যক্ষ মাওলানা ওসমান গণি বলেন, সকল নিয়ম মেনেই নিয়োগ বোর্ড গঠণ করেছিলাম। উৎকোচ নেয়া বা আতœীয়করণের অভিযোগ সঠিক নয়। কিন্তু তারা কারো উস্কানীতে মাদরাসায় এসে আমাকে লাঞ্ছিত করেছে, এতে খুব মর্মাহত হয়েছি। তাই বাধ্য হয়ে আপাতত নিয়োগ বন্ধ রেখেছি।

ট্যাগস :

বড়াইগ্রামে নিয়োগ বন্ধের দাবিতে মাদরাসা ঘেরাও,অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩

নাটোরের বড়াইগ্রামে নিয়োগ বন্ধের দাবিতে মাদরাসা ঘেরাও করে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত ও শ্রেণীকক্ষে অবরুদ্ধ রাখার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিপুল অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে আতœীয়-স্বজনসহ পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগে মাদরাসা চত্ত্বরে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা। পরে অধ্যক্ষ নিয়োগ বন্ধ রাখার প্রকাশ্য ঘোষণা দেয়াসহ লিখিত নোটিশ দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে আন্দোলনকারীরা অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে, মাত্র এক সপ্তাহ আগে একই কারণ দেখিয়ে উপজেলার কচুগাড়ি ফকিরবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়োগও বন্ধ করে দেয়া হয় বলে জানা গেছে।
মাদরাসা সুত্রে জানা যায়,উপজেলার ইসলামপুর গুণাইহাটি সিনিয়র মাদরাসায় শুন্য ও সৃষ্টপদে দুই জন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও একজন নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের জন্য ১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার লিখিত পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। গত বুধবার দুপুরে অধ্যক্ষ মাওলানা ওসমান গণি বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করছিলেন। এ সময় নিয়োগ বোর্ড গঠণের বিষয়টি জানাজানি হলে জহির উদ্দিন মিয়াজীর নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন বিক্ষুব্ধ আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিলসহ মাদরাসায় যান। তারা ফলাফল ঘোষণা বন্ধ রেখে অধ্যক্ষকে একটি শ্রেণীকক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং নিয়োগ বোর্ড বাতিলের জন্য চাপ দেন। এ সময় কিছু লোকজন তার চেয়ারে লাথি মারাসহ তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত ও টানাহেঁচড়া করেছেন বলে অধ্যক্ষ অভিযোগ করেন। পরে অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে অধ্যক্ষ নিয়োগ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলে নেতাকর্মীরা শান্ত হন।
এ ব্যাপারে আওয়ামীলীগ কর্মী জহির উদ্দিন মিয়াজী বলেন, মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে অধ্যক্ষ নিজের ভাতিজা ও সহ-সভাপতির ছেলেসহ পছন্দের প্রার্থীকে গোপনে বোর্ড করে নিয়োগ দেয়ার পাঁয়তারা করেছিলেন। তাই আমরা নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছি। তবে অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ রাখলেও লাঞ্ছিতের অভিযোগ সঠিক নয়।
অধ্যক্ষ মাওলানা ওসমান গণি বলেন, সকল নিয়ম মেনেই নিয়োগ বোর্ড গঠণ করেছিলাম। উৎকোচ নেয়া বা আতœীয়করণের অভিযোগ সঠিক নয়। কিন্তু তারা কারো উস্কানীতে মাদরাসায় এসে আমাকে লাঞ্ছিত করেছে, এতে খুব মর্মাহত হয়েছি। তাই বাধ্য হয়ে আপাতত নিয়োগ বন্ধ রেখেছি।