ঢাকা ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাগাতিপাড়ায় রাতের আঁধারে চলছে প্রকল্পের কাজ

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪ ৩০ বার পঠিত

প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই অর্থ উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশের পর রাতের আঁধারে চলছে এসব প্রকল্পের কাজ। আগের অনিয়ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে শুরু করা এসব প্রকল্প নিয়ে আবারও উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ।বিভিন্ন পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হলে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সরকারি বিধি না মেনে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্প শুরুর আগেই অর্থ তুলে নেওয়া ৩টি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে, প্রকল্প বাস্তবায়নে থাকা কমিটিকে এবারও রাখা হয়েছে প্রকল্পের বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কেনাকাটা থেকে শ্রমিকের মজুরি দেওয়া সবই করছেন ইউএনও অফিসের উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সংযুক্ত) বজলুর রশিদ।
সরেজমিনে বাগাতিপাড়া উপজেলা চত্বরের এসব প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, ইউএনও অফিসের উত্তর পাশে ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দে গাড়ি পার্কিং উন্নয়ন প্রকল্পস্থলে দেয়াল তৈরীর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অনিয়ম ঢাকতে শনিবার (২৭ এপ্রিল) মধ্যররাতে শেষ করা হয় পার্কিং এলাকার মেঝে ঢালায়ের কাজ। অপরদিকে, ইউএনও’র বাসভবনের প্রধান ফটক সংলগ্ন স্থানে শুরু হয়েছে ১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আনসার শেড নির্মাণ ও ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দে পুকুরের প্যালা সাইডের নির্মাণ কাজ। 
প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা নির্মাণ শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কাজ আরও আগে শেষ করার কথা থাকলেও শেষ না হওয়ায় রাতেই মেঝে ঢালাইয়ের কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া, দুটি প্রকল্পে ৪০ হাজার টাকা মজুরিতে উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সংযুক্ত) বজলুর রশিদ তাদের এ কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন। এসব নির্মাণ কাজে প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রীও সরবরাহ করছেন বজলুর রশিদ।
উপজেলা চত্বরে চলমান গাড়ি পার্কিং উন্নয়ন প্রকল্পের সভাপতি ও বাগাতিপাড়া সদর ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ শেখ বলেন, ‘কাজ ইউএনও অফিসই করছে। টাকা যেহেতু তাদের হাতে প্রকল্পের কেনাকাটা তারাই করছে। খরার জন্য হয়তো রাতে কাজ করতে পারে। ইউএনও ও পিআইও অফিসই যেহেতু আমাদের অন্যান্য কাজের ছাড়পত্র দেয় তাই তারা নিজেরা কাজ করলে হয়তো ভালোই হবে।’ কাগজে কলমে অনেক দায়িত্ব থাকলেও বাস্তবে, উপজেলা চত্বরে আসলে প্রকল্প ঘুরে দেখা ছাড়া তেমন কোনো দায়িত্বে নেই বলে জানান তিনি।
ইউএনও কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সংযুক্ত) বজলুর রশিদ বলেন, ‘কাজ বিকেলে শুরু হয়েছিল। পানির মটর নষ্ট হওয়ায় সেটা ঠিক করে কাজ শেষ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে।’ 
প্রকল্পের সভাপতিকে বাদ দিয়ে নিজে প্রকল্পের কেনাকাটা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পিআইও স্যারের সাথে কথা বলে ইউএনও স্যার কাজ করছেন। সভাপতিদের সাথে স্যার কথা বলেছেন কিনা আমি জানি না। টিআর,কাবিখার কাজ এমপি চেয়ারম্যানরা করলে কিছুই করেনা। কিন্তু, ইউএনও করলে সেটা একশত ভাগের বেশি করতে হয়।’
বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাইমেনা শারমীন বলেন, ‘রাতে কাজের বিষয়ে পরিপত্র দেখে বলতে হবে।’ এছাড়া মুঠোফোনে এ বিষয়ে অন্য কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা।

ট্যাগস :

বাগাতিপাড়ায় রাতের আঁধারে চলছে প্রকল্পের কাজ

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪

প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই অর্থ উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশের পর রাতের আঁধারে চলছে এসব প্রকল্পের কাজ। আগের অনিয়ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে শুরু করা এসব প্রকল্প নিয়ে আবারও উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ।বিভিন্ন পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হলে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সরকারি বিধি না মেনে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্প শুরুর আগেই অর্থ তুলে নেওয়া ৩টি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে, প্রকল্প বাস্তবায়নে থাকা কমিটিকে এবারও রাখা হয়েছে প্রকল্পের বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কেনাকাটা থেকে শ্রমিকের মজুরি দেওয়া সবই করছেন ইউএনও অফিসের উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সংযুক্ত) বজলুর রশিদ।
সরেজমিনে বাগাতিপাড়া উপজেলা চত্বরের এসব প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, ইউএনও অফিসের উত্তর পাশে ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দে গাড়ি পার্কিং উন্নয়ন প্রকল্পস্থলে দেয়াল তৈরীর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অনিয়ম ঢাকতে শনিবার (২৭ এপ্রিল) মধ্যররাতে শেষ করা হয় পার্কিং এলাকার মেঝে ঢালায়ের কাজ। অপরদিকে, ইউএনও’র বাসভবনের প্রধান ফটক সংলগ্ন স্থানে শুরু হয়েছে ১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আনসার শেড নির্মাণ ও ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দে পুকুরের প্যালা সাইডের নির্মাণ কাজ। 
প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা নির্মাণ শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কাজ আরও আগে শেষ করার কথা থাকলেও শেষ না হওয়ায় রাতেই মেঝে ঢালাইয়ের কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া, দুটি প্রকল্পে ৪০ হাজার টাকা মজুরিতে উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সংযুক্ত) বজলুর রশিদ তাদের এ কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন। এসব নির্মাণ কাজে প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রীও সরবরাহ করছেন বজলুর রশিদ।
উপজেলা চত্বরে চলমান গাড়ি পার্কিং উন্নয়ন প্রকল্পের সভাপতি ও বাগাতিপাড়া সদর ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ শেখ বলেন, ‘কাজ ইউএনও অফিসই করছে। টাকা যেহেতু তাদের হাতে প্রকল্পের কেনাকাটা তারাই করছে। খরার জন্য হয়তো রাতে কাজ করতে পারে। ইউএনও ও পিআইও অফিসই যেহেতু আমাদের অন্যান্য কাজের ছাড়পত্র দেয় তাই তারা নিজেরা কাজ করলে হয়তো ভালোই হবে।’ কাগজে কলমে অনেক দায়িত্ব থাকলেও বাস্তবে, উপজেলা চত্বরে আসলে প্রকল্প ঘুরে দেখা ছাড়া তেমন কোনো দায়িত্বে নেই বলে জানান তিনি।
ইউএনও কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সংযুক্ত) বজলুর রশিদ বলেন, ‘কাজ বিকেলে শুরু হয়েছিল। পানির মটর নষ্ট হওয়ায় সেটা ঠিক করে কাজ শেষ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে।’ 
প্রকল্পের সভাপতিকে বাদ দিয়ে নিজে প্রকল্পের কেনাকাটা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পিআইও স্যারের সাথে কথা বলে ইউএনও স্যার কাজ করছেন। সভাপতিদের সাথে স্যার কথা বলেছেন কিনা আমি জানি না। টিআর,কাবিখার কাজ এমপি চেয়ারম্যানরা করলে কিছুই করেনা। কিন্তু, ইউএনও করলে সেটা একশত ভাগের বেশি করতে হয়।’
বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাইমেনা শারমীন বলেন, ‘রাতে কাজের বিষয়ে পরিপত্র দেখে বলতে হবে।’ এছাড়া মুঠোফোনে এ বিষয়ে অন্য কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা।