ঢাকা ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভারতে অস্ত্র চোরাচালান বন্ধ করেছে আ. লীগ সরকার : প্রধানমন্ত্রী

আমাদের বড়াল ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:০১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪ ৩৫ বার পঠিত

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারতের সেভেন সিস্টারে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ সরকার সেখানে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অস্ত্রের যোগান ও চোরাকারবারি বন্ধ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার (২৫ মে) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে বঙ্গবাজারে এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় শুধু ধনীরাই নয়, নিম্ন আয়ের এবং বস্তিবাসীও ফ্ল্যাটে থাকবে; সরকার সেই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান।
টানা চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার এসে এই বাংলাদেশে অস্ত্র চোরাকারবারির যে রুট সেটা আমরা বন্ধ করেছি। ভারতে উলফা থেকে শুরু করে যেখানে যেখানে যারা অস্ত্র সাপ্লাই দিতো, সেগুলো আমরা বন্ধ করেছি; তাদেরও যাতে শান্তি আসে; তাদের ওই সেভেন সিস্টারে, সেই ব্যবস্থা কিন্তু আওয়ামী লীগ করেছে- এটা সব থেকে বড় কাজ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে ল্যান্ড বাউন্ডারি (ছিটমহল) সেটাও বিনিময় করে সারা বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। বিশাল সমুদ্র সীমা আমরা জয় করেছি। যারা আগে ক্ষমতায় ছিল তারা (বিএনপি) এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি; জানতোই না!
‘তারা আসছিল লুটপাট করতে, দুর্নীতি করতে, অস্ত্র চোরাকারবার করতে, সে কাজেই ব্যস্ত ছিল, আর মানুষ খুন করতে। ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা থেকে শুরু করে, যত রকমের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচার, ধরে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার, দিনের পর দিন অত্যাচারই করতে পেরেছে।’
বিএনপির শাসনামলের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশটাকে তারা কোথায় নিয়ে গিয়েছিল, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ, অস্ত্র চোরাকারবারি; ওই তারেক জিয়া তো অস্ত্র চোরাকারবার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি, ওখানে (লন্ডনে) বসে এখন নানাভাবে ওই অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষ মারা, মানুষ খুন করা, আগুন দিয়ে মানুষকে পোড়ানো এসব কাজ করে বেড়ায়।
টানা গত তিন মেয়াদে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন এবং উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে এগিয়ে যেতে হবে, সেভাবে আমরা এগিয়ে যাব।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকতে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুব সমাজকে লেখাপড়া করতে হবে। মাদক নেশা দুর্নীতি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকতে হবে।
‘একটা ঘরে একটা সন্তান মাদকাসক্ত হলে পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। বাবা মা এবং নিজেদের কষ্ট দেওয়া কেনো? মাদকাসক্ত হলে তো নিজেও একটা সময় অসুস্থ হয়ে যায়। নিজেদের ঘরসংসার হয় না, কিচ্ছু হয় না। সেজন্য আমি মনে করি, একটা সচেতনতা তৈরি করা দরকার। যাতে আমাদের সন্তানরা নিজের পায়ে দাঁড়ায়, নিজের আয়ে খায়, আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচে। সেটাই আমরা চাই।’
তিনি বলেন, ‘কোনো রকম পাস করে চাকরির পেছনে না ছুটে বেড়িয়ে নিজেই উদ্যোক্তা হবেন। নিজেই নিজের বস হবেন। অন্যকেও চাকরি দেবেন। এ জন্য আমরা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করছি। নানা সুযোগ দিচ্ছি। শুধু দেশে নয়, বিদেশে যেতেও ট্রেনিং নিয়ে গেলে ভালো করে। এগুলোতে আমাদের তরুণদের উদ্যমী করতে হবে।’
শুধু ধনীরাই নয়, নিম্ন আয়ের এবং বস্তিবাসীও ফ্ল্যাটে থাকবে; সরকার সেই পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঢাকা সিটির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ফ্ল্যাট বানিয়ে দিচ্ছি। তাদের সম্মানজনক পদবির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। শুধু বড় লোকরা ফ্ল্যাটে থাকবে, তা কিন্তু হবে না। রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে দিনমজুর সবার জন্য ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘যে বস্তিতে যে ভাড়ায় থাকে, সেরকমই ভাড়া দেবে। স্বল্প ভাড়ায় ফ্ল্যাট দিচ্ছি। কেউ সপ্তাহে এবং মাসে ভাড়া দিতে পারবে। কেউ কাচা বস্তি বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকবে না। সবার জন্য সুন্দর স্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কেউ গৃহহীন ভূমিহীন থাকবে না। সবাইকে ২ শতক জমি ও ঘর করে দিচ্ছি।’
ঢাকার উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ঢাকার আশাপাশে বাঁধের ওপর রাস্তা করে দিয়েছি। কেন্দ্রীয় কারাগার পুরান ঢাকা থেকে সরিয়ে কেরাণীগঞ্জ নিয়ে গেছি। পুরনো কারাগারের কিছু স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি খালি যায়গায় স্কুল ও পার্ক করে দিচ্ছি। এইভাবে পুরান ঢাকার নানা উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছি। জগন্নাথ একটা প্রাইমারি স্কুল ছিল, পরে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল, তারপর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় হয়। কিন্তু জায়গা তো বাড়েনি। আমরা সুন্দর একটা ক্যাম্পাস করার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি। ঢাকার মানুষের যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করছি।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস, সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইব্রাহীম।

ট্যাগস :

ভারতে অস্ত্র চোরাচালান বন্ধ করেছে আ. লীগ সরকার : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৫:০১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারতের সেভেন সিস্টারে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ সরকার সেখানে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অস্ত্রের যোগান ও চোরাকারবারি বন্ধ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার (২৫ মে) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে বঙ্গবাজারে এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় শুধু ধনীরাই নয়, নিম্ন আয়ের এবং বস্তিবাসীও ফ্ল্যাটে থাকবে; সরকার সেই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান।
টানা চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার এসে এই বাংলাদেশে অস্ত্র চোরাকারবারির যে রুট সেটা আমরা বন্ধ করেছি। ভারতে উলফা থেকে শুরু করে যেখানে যেখানে যারা অস্ত্র সাপ্লাই দিতো, সেগুলো আমরা বন্ধ করেছি; তাদেরও যাতে শান্তি আসে; তাদের ওই সেভেন সিস্টারে, সেই ব্যবস্থা কিন্তু আওয়ামী লীগ করেছে- এটা সব থেকে বড় কাজ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে ল্যান্ড বাউন্ডারি (ছিটমহল) সেটাও বিনিময় করে সারা বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। বিশাল সমুদ্র সীমা আমরা জয় করেছি। যারা আগে ক্ষমতায় ছিল তারা (বিএনপি) এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি; জানতোই না!
‘তারা আসছিল লুটপাট করতে, দুর্নীতি করতে, অস্ত্র চোরাকারবার করতে, সে কাজেই ব্যস্ত ছিল, আর মানুষ খুন করতে। ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা থেকে শুরু করে, যত রকমের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচার, ধরে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার, দিনের পর দিন অত্যাচারই করতে পেরেছে।’
বিএনপির শাসনামলের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশটাকে তারা কোথায় নিয়ে গিয়েছিল, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ, অস্ত্র চোরাকারবারি; ওই তারেক জিয়া তো অস্ত্র চোরাকারবার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি, ওখানে (লন্ডনে) বসে এখন নানাভাবে ওই অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষ মারা, মানুষ খুন করা, আগুন দিয়ে মানুষকে পোড়ানো এসব কাজ করে বেড়ায়।
টানা গত তিন মেয়াদে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন এবং উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে এগিয়ে যেতে হবে, সেভাবে আমরা এগিয়ে যাব।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকতে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুব সমাজকে লেখাপড়া করতে হবে। মাদক নেশা দুর্নীতি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকতে হবে।
‘একটা ঘরে একটা সন্তান মাদকাসক্ত হলে পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। বাবা মা এবং নিজেদের কষ্ট দেওয়া কেনো? মাদকাসক্ত হলে তো নিজেও একটা সময় অসুস্থ হয়ে যায়। নিজেদের ঘরসংসার হয় না, কিচ্ছু হয় না। সেজন্য আমি মনে করি, একটা সচেতনতা তৈরি করা দরকার। যাতে আমাদের সন্তানরা নিজের পায়ে দাঁড়ায়, নিজের আয়ে খায়, আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচে। সেটাই আমরা চাই।’
তিনি বলেন, ‘কোনো রকম পাস করে চাকরির পেছনে না ছুটে বেড়িয়ে নিজেই উদ্যোক্তা হবেন। নিজেই নিজের বস হবেন। অন্যকেও চাকরি দেবেন। এ জন্য আমরা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করছি। নানা সুযোগ দিচ্ছি। শুধু দেশে নয়, বিদেশে যেতেও ট্রেনিং নিয়ে গেলে ভালো করে। এগুলোতে আমাদের তরুণদের উদ্যমী করতে হবে।’
শুধু ধনীরাই নয়, নিম্ন আয়ের এবং বস্তিবাসীও ফ্ল্যাটে থাকবে; সরকার সেই পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঢাকা সিটির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ফ্ল্যাট বানিয়ে দিচ্ছি। তাদের সম্মানজনক পদবির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। শুধু বড় লোকরা ফ্ল্যাটে থাকবে, তা কিন্তু হবে না। রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে দিনমজুর সবার জন্য ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘যে বস্তিতে যে ভাড়ায় থাকে, সেরকমই ভাড়া দেবে। স্বল্প ভাড়ায় ফ্ল্যাট দিচ্ছি। কেউ সপ্তাহে এবং মাসে ভাড়া দিতে পারবে। কেউ কাচা বস্তি বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকবে না। সবার জন্য সুন্দর স্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কেউ গৃহহীন ভূমিহীন থাকবে না। সবাইকে ২ শতক জমি ও ঘর করে দিচ্ছি।’
ঢাকার উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ঢাকার আশাপাশে বাঁধের ওপর রাস্তা করে দিয়েছি। কেন্দ্রীয় কারাগার পুরান ঢাকা থেকে সরিয়ে কেরাণীগঞ্জ নিয়ে গেছি। পুরনো কারাগারের কিছু স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি খালি যায়গায় স্কুল ও পার্ক করে দিচ্ছি। এইভাবে পুরান ঢাকার নানা উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছি। জগন্নাথ একটা প্রাইমারি স্কুল ছিল, পরে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল, তারপর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় হয়। কিন্তু জায়গা তো বাড়েনি। আমরা সুন্দর একটা ক্যাম্পাস করার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি। ঢাকার মানুষের যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করছি।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস, সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইব্রাহীম।