পাবনার চাটমোহরে এসে প্রতারক দুই মহিলার খপ্পড়ে পড়ে ২ লাখ টাকা খোয়ালেন সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়ার দুই ব্যবসায়ী। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে চাটমোহর উপজেলার মুলগ্রাম ইউনিয়নের বেজপাড়া গ্রামে। প্রতারিত দুই ব্যবসায়ী হলেন উল্লাপাড়া উপজেলার শিমলা গ্রামের মনোরঞ্জন কর্মকারের ছেলে রনি কর্মকার (৩২) ও আলিগ্রামের জাহের উদ্দিন শেখের ছেলে জয়নাল আবেদীন শেখ (৬০)।
জানা গেছে,ওই দুই ব্যবসায়ীর সাথে পরিচয় হয় চাটমোহর উপজেলার শাহপুর গ্রামের কুখ্যাত প্রতারক সাহেদ আলীর। এক পর্যায়ে সাহেদ তাদের জানায়,তাড়াশের নওগাঁ গ্রামে ২জন মহিলার কাছে ২ হাজার পিস রুপার কয়েন রয়েছে। তারা সেটা বিক্রি করবেন। কিন্তু প্রকাশ্যে তা বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছেনা। ওই দুই ব্যবসায়ী তা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করলে দুই মহিলার মোবাইল নম্বর দেন সাহেদ। দুই ব্যবসায়ী মোবাইলের মাধ্যমে দুই মহিলার সাথে যোগাযোগ করে নওগাঁ আসেন। তাদেরকে কয়েকটি কয়েন দেখানো হয়। বলা হয় এরকম ২০৪০টি কয়েন রয়েছে। দাম নির্ধারণ হয় ২ লাখ টাকা। তাদেরকে বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) চাটমোহর উপজেলার বেজপাড়া আসতে বলে। কারণ সেখানে কয়েন রাখা আছে। দুই ব্যবসায়ী বৃহস্পতিবার মোটর সাইকেলযোগে বেজপাড়া গ্রামে আসলে। রেললাইনের ধারে তাদের সাথে সাক্ষাত হয়। এসময় একটি কলস বস্তা ও ব্যাগ দিয়ে মোড়ানে বাধা অবস্থায় তাদের হাতে তুলে দিয়ে বলে,এখানে সকল কয়েন আছে। খুব গোপন,কেউ দেখলে বিপদ আছে। দুই ব্যবসায়ী সরল বিশ^াসে ২ লাখ টাকা দিয়ে ব্যাগটি নিয়ে যায়। চম্পট দেয় ওই মহিলা প্রতারকদ্বয়। কিছুদুরে গিয়ে ব্যাগ ও বস্তা খুলে দেখে সেখানে শুধু কাঁচের টুকরা ও বালি রয়েছে। তারা বুঝতে পারে প্রতারণার বিষয়টি। এসময় মহিলাদের খোঁজাখুজি শুরু করতে থাকলে বেজপাড়া গ্রামবাসীর তাদের দেখে সন্দেহ হয়। দুই ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। তখন তারা তাদের মোবাইলে ধারণ করা প্রতারক সাহেদ আলীর ছবি দেখায়।
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা জানান,দু’জনেই লোভের বশবতী হয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।