ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo আটঘরিয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo চাটমোহরে সার মজুত করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ Logo পাবনায় শিশু কলি হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত Logo চাটমোহরে দিনমজুর হত্যা মামলায় নিরীহ ব্যক্তিদের জড়ানোর প্রতিবাদে গ্রামবাসীর মানববন্ধন ও প্রতিবাদ Logo র‍্যাব বিলুপ্ত হয়ে নতুন নামে যাত্রা শুরু Logo নিখোঁজের সাতদিন পর ডোবায় মিলল শিশু কলির বস্তাবন্দি মরদেহ; পরিবারের দাবি হত্যা Logo ধর্ষণের শিকার পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী Logo চাটমোহরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত Logo দুই শিক্ষার্থী অপহরণ চক্রের ৮ সদস্য গ্রেফতার,উদ্ধার দুই কলেজ শিক্ষার্থী Logo ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৭ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি দেড় হাজারের বেশি

আগামীকাল মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের দ্বাদশ মৃত্যুবার্ষিকী,জন্মস্থান পাবনায় নানা আয়োজন

পাবনা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৮:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬০ বার পঠিত
251

‘এ শুধু গানের দিন, এ লগনও গান সোনাভান’,‘এই পথ যদি শেষ না হয়’,‘তুমি না হয় রহিতে কাছে’ গানের ঠোট মেলানো স্বপ্নের নায়িকা সুচিত্রা সেন। সঙ্গে মায়াবী চাহনি, নির্মল হাসি বা মধুমাখা আধো আধো কণ্ঠে অসাধারণ সব সংলাপ। সেই নায়িকা উপমহাদেশের বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়িকা সুচিত্রা সেনের দ্বাদশ মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সুচিত্রা সেনের মৃর্তুবার্ষিকী উপলক্ষে জন্মভুমি পাবনায় তার পৈত্রিক বাড়ীতে শ্রদ্ধার্ঘ অপর্ন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সুচিত্রা সেন ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল পাবনা শহরের গোপালপুর মহল্লার হেমসাগর লেনের একতলা পাকা পৈত্রিক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। শহরের মহাকালী পাঠশালায় পড়ালেখা শেষ করে সুচিত্রা সেন স্থানীয় পাবনা বালিকা বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন।
১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের কয়েক মাস আগে তার বাবা করুণাময় দাসগুপ্ত স্বপরিবারে ভারত পাড়ি দেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সুচিত্রা সেন বাংলা ও হিন্দি মিলিয়ে ৬৩টি সিনেমাতে অভিনয় করেন।
উত্তম কুমারের সঙ্গে জুটি হয়ে তিনি উপমহাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলেন। ১৯৭৮ সালে উত্তম কুমার মারা গেলে অভিনয় বন্ধ করে দেন।
উত্তম-সুচিত্রা জুটির ৩০টি বাংলা সিনেমা সফলতার মুখে দেখে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ‘অগ্নিপরীক্ষা’,‘সবার উপরে’,‘পাপমোচন’,‘শিল্পী’, ‘সাগরিকা’,‘পথে হল দেরি’, ‘হারানো সুর’, ‘গৃহদাহ’, ‘প্রিয় বান্ধবী’ ইত্যাদি। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দের ‘দেবদাস’ ছিলো সুচিত্রা সেন অভিনীত প্রথম হিন্দি সিনেমা।
সুচিত্রা সেনের দ্বাদশ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, পাবনা তার পৈত্রিক বাড়ীতে তার মুর্যালে শ্রদ্ধার্ঘ অপর্ন ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
সুচিত্রা সেন ১৯৬৩ সালে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সাত পাকে বাঁধা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পদ্মশ্রী পান। ২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাংলাবিভূষণ সম্মাননা দেন তাকে। ২০০৫ সালে সুচিত্রা সেনকে ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার দেয়ার প্রস্তাব করা হলে সুচিত্রা সেন দিল্লিতে গিয়ে ওই সম্মান গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
সুচিত্রা সেন স্মরণে এবার পাবনা, ঢাকা, কোলকাতা, মুম্বাই ছেড়ে সুদুর আমেরিকার নিউইয়র্কের জ্যমাইকা সেন্টারে ২০২৩ সালের ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী আন্তজার্তিক চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
পাবনার জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা জানান, সুচিত্রা সেনের পৈতিক বাড়ি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা আছে। এ ছাড়া কিছু জরুরী সংস্কার কাজ করে সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে।

ট্যাগস :

আগামীকাল মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের দ্বাদশ মৃত্যুবার্ষিকী,জন্মস্থান পাবনায় নানা আয়োজন

আপডেট সময় : ০৩:৩৮:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
251

‘এ শুধু গানের দিন, এ লগনও গান সোনাভান’,‘এই পথ যদি শেষ না হয়’,‘তুমি না হয় রহিতে কাছে’ গানের ঠোট মেলানো স্বপ্নের নায়িকা সুচিত্রা সেন। সঙ্গে মায়াবী চাহনি, নির্মল হাসি বা মধুমাখা আধো আধো কণ্ঠে অসাধারণ সব সংলাপ। সেই নায়িকা উপমহাদেশের বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়িকা সুচিত্রা সেনের দ্বাদশ মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সুচিত্রা সেনের মৃর্তুবার্ষিকী উপলক্ষে জন্মভুমি পাবনায় তার পৈত্রিক বাড়ীতে শ্রদ্ধার্ঘ অপর্ন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সুচিত্রা সেন ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল পাবনা শহরের গোপালপুর মহল্লার হেমসাগর লেনের একতলা পাকা পৈত্রিক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। শহরের মহাকালী পাঠশালায় পড়ালেখা শেষ করে সুচিত্রা সেন স্থানীয় পাবনা বালিকা বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন।
১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের কয়েক মাস আগে তার বাবা করুণাময় দাসগুপ্ত স্বপরিবারে ভারত পাড়ি দেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সুচিত্রা সেন বাংলা ও হিন্দি মিলিয়ে ৬৩টি সিনেমাতে অভিনয় করেন।
উত্তম কুমারের সঙ্গে জুটি হয়ে তিনি উপমহাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলেন। ১৯৭৮ সালে উত্তম কুমার মারা গেলে অভিনয় বন্ধ করে দেন।
উত্তম-সুচিত্রা জুটির ৩০টি বাংলা সিনেমা সফলতার মুখে দেখে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ‘অগ্নিপরীক্ষা’,‘সবার উপরে’,‘পাপমোচন’,‘শিল্পী’, ‘সাগরিকা’,‘পথে হল দেরি’, ‘হারানো সুর’, ‘গৃহদাহ’, ‘প্রিয় বান্ধবী’ ইত্যাদি। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দের ‘দেবদাস’ ছিলো সুচিত্রা সেন অভিনীত প্রথম হিন্দি সিনেমা।
সুচিত্রা সেনের দ্বাদশ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, পাবনা তার পৈত্রিক বাড়ীতে তার মুর্যালে শ্রদ্ধার্ঘ অপর্ন ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
সুচিত্রা সেন ১৯৬৩ সালে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সাত পাকে বাঁধা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পদ্মশ্রী পান। ২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাংলাবিভূষণ সম্মাননা দেন তাকে। ২০০৫ সালে সুচিত্রা সেনকে ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার দেয়ার প্রস্তাব করা হলে সুচিত্রা সেন দিল্লিতে গিয়ে ওই সম্মান গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
সুচিত্রা সেন স্মরণে এবার পাবনা, ঢাকা, কোলকাতা, মুম্বাই ছেড়ে সুদুর আমেরিকার নিউইয়র্কের জ্যমাইকা সেন্টারে ২০২৩ সালের ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী আন্তজার্তিক চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
পাবনার জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা জানান, সুচিত্রা সেনের পৈতিক বাড়ি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা আছে। এ ছাড়া কিছু জরুরী সংস্কার কাজ করে সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে।