ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo আটঘরিয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo চাটমোহরে সার মজুত করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ Logo পাবনায় শিশু কলি হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত Logo চাটমোহরে দিনমজুর হত্যা মামলায় নিরীহ ব্যক্তিদের জড়ানোর প্রতিবাদে গ্রামবাসীর মানববন্ধন ও প্রতিবাদ Logo র‍্যাব বিলুপ্ত হয়ে নতুন নামে যাত্রা শুরু Logo নিখোঁজের সাতদিন পর ডোবায় মিলল শিশু কলির বস্তাবন্দি মরদেহ; পরিবারের দাবি হত্যা Logo ধর্ষণের শিকার পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী Logo চাটমোহরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত Logo দুই শিক্ষার্থী অপহরণ চক্রের ৮ সদস্য গ্রেফতার,উদ্ধার দুই কলেজ শিক্ষার্থী Logo ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৭ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি দেড় হাজারের বেশি

ইসরায়েলে পাল্টা হামলায় ইরানের ১০০ ড্রোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১০:১৯:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫ ১৪৮ বার পঠিত
123

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক এক নজিরবিহীন অভিযানে ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এরই জবাবে পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের দিকে প্রায় ১০০টি ড্রোন পাঠিয়েছে ইরান। এই ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার নতুন আশঙ্কা তৈরি করেছে।
শুক্রবার (১৩ জুন) বিবিসি, এপি ও টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে উঠে আসে সাম্প্রতিক এই সংঘাতের বিস্তারিত চিত্র।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন জানান, “ইরান থেকে প্রায় ১০০টি ড্রোন ইসরায়েলের দিকে পাঠানো হয়েছে, আমরা সেগুলো ভূপাতিত করতে কাজ করছি।”
এর আগে ভোররাতে ইসরায়েল পাঁচটি ধাপে ইরানের ভেতরে ব্যাপক আকারে হামলা চালায়। এই অভিযানে ২০০টির মতো যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং ইরানের অন্তত ৮টি শহরের ১০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ইসরায়েল এই সামরিক অভিযানকে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ বা ‘উদীয়মান সিংহ’ নামে ঘোষণা করেছে।
ইসরায়েলের দাবি, এই হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা এবং শীর্ষ সামরিক কমান্ডারের ঘাঁটি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তেহরানের ইউরেনিয়াম পরিশোধনাগার।
এই অভিযানে ইরানের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান জেনারেল হোসেইন সালামি এবং কেন্দ্রীয় সামরিক সদরদপ্তরের কমান্ডার জেনারেল গোলামালি রাশিদ নিহত হন। আরও নিহত হয়েছেন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্ত বিজ্ঞানী ফেরেয়দুন আব্বাসি এবং মোহাম্মদ মাহদি তেহরানচি।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, “এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল নিজেই নিজের জন্য একটি করুণ পরিণতির পথ তৈরি করেছে। এর ফল তারা নিশ্চিতভাবে ভোগ করবে।”
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, “আমরা ইসরায়েলের ইতিহাসের এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে আছি। যতদিন না ইরান থেকে হুমকি বন্ধ হচ্ছে, ততদিন আমাদের অভিযান চলবে।”
ইসরায়েল এই পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

ট্যাগস :

ইসরায়েলে পাল্টা হামলায় ইরানের ১০০ ড্রোন

আপডেট সময় : ১০:১৯:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫
123

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক এক নজিরবিহীন অভিযানে ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এরই জবাবে পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের দিকে প্রায় ১০০টি ড্রোন পাঠিয়েছে ইরান। এই ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার নতুন আশঙ্কা তৈরি করেছে।
শুক্রবার (১৩ জুন) বিবিসি, এপি ও টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে উঠে আসে সাম্প্রতিক এই সংঘাতের বিস্তারিত চিত্র।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন জানান, “ইরান থেকে প্রায় ১০০টি ড্রোন ইসরায়েলের দিকে পাঠানো হয়েছে, আমরা সেগুলো ভূপাতিত করতে কাজ করছি।”
এর আগে ভোররাতে ইসরায়েল পাঁচটি ধাপে ইরানের ভেতরে ব্যাপক আকারে হামলা চালায়। এই অভিযানে ২০০টির মতো যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং ইরানের অন্তত ৮টি শহরের ১০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ইসরায়েল এই সামরিক অভিযানকে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ বা ‘উদীয়মান সিংহ’ নামে ঘোষণা করেছে।
ইসরায়েলের দাবি, এই হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা এবং শীর্ষ সামরিক কমান্ডারের ঘাঁটি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তেহরানের ইউরেনিয়াম পরিশোধনাগার।
এই অভিযানে ইরানের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান জেনারেল হোসেইন সালামি এবং কেন্দ্রীয় সামরিক সদরদপ্তরের কমান্ডার জেনারেল গোলামালি রাশিদ নিহত হন। আরও নিহত হয়েছেন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্ত বিজ্ঞানী ফেরেয়দুন আব্বাসি এবং মোহাম্মদ মাহদি তেহরানচি।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, “এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল নিজেই নিজের জন্য একটি করুণ পরিণতির পথ তৈরি করেছে। এর ফল তারা নিশ্চিতভাবে ভোগ করবে।”
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, “আমরা ইসরায়েলের ইতিহাসের এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে আছি। যতদিন না ইরান থেকে হুমকি বন্ধ হচ্ছে, ততদিন আমাদের অভিযান চলবে।”
ইসরায়েল এই পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।