ঢাকা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo দীর্ঘদিনের পথচলার স্বীকৃতি: নিবন্ধিত হলো ‘হৃদস্পন্দন ফাউন্ডেশন’ Logo বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল জব্বার আর নেই Logo মাদকসহ অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর মানববন্ধন Logo পাবনায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ Logo ঈশ্বরদীতে নির্মিত হবে নতুন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ঃ রেল সচিব Logo বর্নাঢ্য আয়োজনে চাটমোহর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দিনব্যাপী পুণর্মিলনী উৎসব Logo চাটমোহরে অবৈধভাবে মজুত ১১৪ বস্তা সার জব্দ Logo ভাঙ্গুড়ায় রোজিনা হত্যার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন Logo চাটমোহরে শারদীয় পুনর্মিলনী ও প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ Logo চাটমোহরের শীর্ষ তিন কর্মকর্তা বদলী

কেন শিশুদের বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়াবেন, সমস্যা কোথায় : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:১৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫ ১৫৭ বার পঠিত
140

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন,‘আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে পড়াচ্ছি,বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক দিচ্ছি, উপবৃত্তি দিচ্ছি। তারপরও অভিভাবকেরা তাঁদের শিশুদের পয়সা খরচ করে অন্যখানে (বেসরকারি বিদ্যালয়ে) কেন পড়াচ্ছেন? প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সমস্যা কোথায়?’
গত শনিবার সকালে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে জেলার শিক্ষক, কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিধান রঞ্জন এসব কথা বলেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় এই সভার আয়োজন করে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন দৃশ্যমান। সে অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়ছে না। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে প্রাথমিক স্কুল ছাড়া অন্য কোথাও যাওয়া সম্ভব ছিল না। এখন কিন্ডারগার্টেন, মাদ্রাসা হয়েছে। মানুষ স্বাধীন। তাঁরা কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসায় শিশুদের পড়াচ্ছেন।’
বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো ভালো। শিক্ষকেরা মানসম্পন্ন। পড়াশোনায় অগ্রসর। বেতনকাঠামো মোটামুটি ভালো। চাকরির নিশ্চয়তা রয়েছে। অন্যসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে কম। তারপরও অভিভাবকেরা কেন তাঁদের শিশুদের অন্য বিদ্যালয়ে পড়াবেন? প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সমস্যা কোথায়? কীভাবে উন্নয়ন করতে পারি, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত আশা করছি।’
মানসম্মত শিক্ষা সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শিশুদের সক্ষম করে তোলা। শিক্ষকেরা শিশুদের মুখস্থ না করিয়ে তাঁরা যেন মাতৃভাষায় বলতে, পড়তে, লিখতে ও গণিত করতে পারে, সে বিষয় নিশ্চিত করবেন। যদি শিশুরা পারে, তাহলে বুঝবেন আপনি সর্বোচ্চ করে দিয়েছেন। এরপর সে নিজে নিজে সর্বোচ্চ পর্যায়ে লেখাপড়া করতে পারবে।’
বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, ‘শিক্ষকের দায়িত্ব পড়াশোনার মান বাড়ানো, তাহলে অনেক সমস্যা কেটে যাবে। সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে উদ্যোগী হলে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে পারব।’
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মোখতার আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (ন্যাপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশনস) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, জেলা প্রশাসক মফিদুল আলম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ।
সভায় প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সুপার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ইউআরসি ইনস্ট্রাক্টর, সহকারী ইনস্ট্রাক্টর ও শিক্ষকেরা অংশ নেন।

ট্যাগস :

কেন শিশুদের বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়াবেন, সমস্যা কোথায় : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৪:১৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫
140

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন,‘আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে পড়াচ্ছি,বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক দিচ্ছি, উপবৃত্তি দিচ্ছি। তারপরও অভিভাবকেরা তাঁদের শিশুদের পয়সা খরচ করে অন্যখানে (বেসরকারি বিদ্যালয়ে) কেন পড়াচ্ছেন? প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সমস্যা কোথায়?’
গত শনিবার সকালে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে জেলার শিক্ষক, কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিধান রঞ্জন এসব কথা বলেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় এই সভার আয়োজন করে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন দৃশ্যমান। সে অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়ছে না। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে প্রাথমিক স্কুল ছাড়া অন্য কোথাও যাওয়া সম্ভব ছিল না। এখন কিন্ডারগার্টেন, মাদ্রাসা হয়েছে। মানুষ স্বাধীন। তাঁরা কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসায় শিশুদের পড়াচ্ছেন।’
বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো ভালো। শিক্ষকেরা মানসম্পন্ন। পড়াশোনায় অগ্রসর। বেতনকাঠামো মোটামুটি ভালো। চাকরির নিশ্চয়তা রয়েছে। অন্যসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে কম। তারপরও অভিভাবকেরা কেন তাঁদের শিশুদের অন্য বিদ্যালয়ে পড়াবেন? প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সমস্যা কোথায়? কীভাবে উন্নয়ন করতে পারি, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত আশা করছি।’
মানসম্মত শিক্ষা সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শিশুদের সক্ষম করে তোলা। শিক্ষকেরা শিশুদের মুখস্থ না করিয়ে তাঁরা যেন মাতৃভাষায় বলতে, পড়তে, লিখতে ও গণিত করতে পারে, সে বিষয় নিশ্চিত করবেন। যদি শিশুরা পারে, তাহলে বুঝবেন আপনি সর্বোচ্চ করে দিয়েছেন। এরপর সে নিজে নিজে সর্বোচ্চ পর্যায়ে লেখাপড়া করতে পারবে।’
বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, ‘শিক্ষকের দায়িত্ব পড়াশোনার মান বাড়ানো, তাহলে অনেক সমস্যা কেটে যাবে। সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে উদ্যোগী হলে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে পারব।’
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মোখতার আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (ন্যাপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশনস) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, জেলা প্রশাসক মফিদুল আলম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ।
সভায় প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সুপার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ইউআরসি ইনস্ট্রাক্টর, সহকারী ইনস্ট্রাক্টর ও শিক্ষকেরা অংশ নেন।