ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo দীর্ঘদিনের পথচলার স্বীকৃতি: নিবন্ধিত হলো ‘হৃদস্পন্দন ফাউন্ডেশন’ Logo বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল জব্বার আর নেই Logo মাদকসহ অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর মানববন্ধন Logo পাবনায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ Logo ঈশ্বরদীতে নির্মিত হবে নতুন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ঃ রেল সচিব Logo বর্নাঢ্য আয়োজনে চাটমোহর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দিনব্যাপী পুণর্মিলনী উৎসব Logo চাটমোহরে অবৈধভাবে মজুত ১১৪ বস্তা সার জব্দ Logo ভাঙ্গুড়ায় রোজিনা হত্যার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন Logo চাটমোহরে শারদীয় পুনর্মিলনী ও প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ Logo চাটমোহরের শীর্ষ তিন কর্মকর্তা বদলী

চাটমোহরে তিন দিনব্যাপী চড়কপূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত,ভক্তদের ঢল

বড়াল প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৫৬ বার পঠিত
194

পাবনার চাটমোহরের বোঁথর গ্রামের মহাদেব মন্দির প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী চড়কপূজা ও মেলা। চড়কপূজা ও মেলায় শত শত ভক্ত ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। চাটমোহর পৌর শহর সংলগ্ন বড়াল নদের পাড়ের বোঁথর গ্রামটি চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। দেশ-বিদেশের অনেকেই আসেন বোঁথরের চড়কপূজা ও মেলায়। এবারও এর ব্যতয় ঘটেনি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরি হয়েছিল এই আয়োজনকে ঘিরে। পূজা উপলক্ষে হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ ভুলে সকলের সামিল হয় সার্বজনীন এই আয়োজনে। চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী,থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফাসহ জনপ্রতিনিধি,সরকারি কর্মকর্তাসহ বিশিষ্টজন উপস্থিত হন এই মেলায়। হরেক রকম পণ্যের পশরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। মাটির তৈজসপত্র থেকে শুরু করে প্লাস্টিক সামগ্রী,তাল পাখা থেকে বৈদ্যুতিক পাখা সবই মিলেছে এই মেলায়। শত শত নারী-পুরুষ আর শিশুর পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গন।
এই পূজা ও মেলা হিন্দুদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন বড়াল নদের তীরের বোঁথর গ্রামটি হয়ে ওঠে তীর্থ ক্ষেত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে। সিন্ধু সভ্যতা থেকেই এই চড়ক পূজা ও মেলা চলে আসছে। গতকাল বুধবার শেষ হয় তিন দিনের এই মেলা।
জানা গেছে,শুদ্র হিন্দু সম্প্রদায়ের মুক্তির বার্তা নিয়ে মহাদেবের আবির্ভাব হয়। সে সময় উচ্চবর্ণের হিন্দু দ্বারা নি¤œবর্ণের হিন্দু নিগৃহিত হতো। ব্রাম্মণবাদের বিলোপ হলে বর্নহিন্দুরাও এতে সম্পৃক্ত হয়। রুপ নেয় সার্বজনীনতায়। মূলতঃ এ পূজার প্রচলন হয় বান রাজার আমল থেকে। শত শত বছর ধরে এই পূজা ও মেলা চলে আসছে।
২২ চৈত্র সন্ধ্যায় পাঠ ঠাকুরের পাঠে ধূপ দিয়ে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। বোঁথর শিব মন্দির থেকে পাঠ নিয়ে যাওয়া হয় বাড়ি বাড়ি। ২৬ ও ২৭ চৈত্র মাঝ রাত থেকে ফুলভাঙ্গা বা কালিনাচ শুরু হয়। তারপর প্রতিমা আসনে বসে। মেলা হয় চৈত্র মাসের শেষ দুইদিন ও বৈশাখ মাসের প্রথম দিন (সনাতন ধর্মালম্বীদের পহেলা বৈশাখ ১৫ এপ্রিল)। আগে নাকি মেলা হতো সপ্তাহব্যাপী। পূজার দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ গত মঙ্গলবার গোধূলি লগ্নে চড়ক গাছ আনুষ্ঠানিকভাবে পোঁতা হয়। এরআগে চড়ক গাছে পূজা দেওয়া হয় দুধ,ফুল ও চিনি দিয়ে। মঙ্গলার্থে ভক্তরা বাতাসা ছিটায়। ভক্তরা নিজেদের সমস্যা সমাধানের জন্য মহাদেব মন্দির প্রদক্ষিণ করেন। চড়ক পূজা উপলক্ষে দোলবাড়িতে মহাদেব আসনে তোলা হয় ২৮ চৈত্র। এই মেলা সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির সৃষ্টি করে।

ট্যাগস :

চাটমোহরে তিন দিনব্যাপী চড়কপূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত,ভক্তদের ঢল

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
194

পাবনার চাটমোহরের বোঁথর গ্রামের মহাদেব মন্দির প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী চড়কপূজা ও মেলা। চড়কপূজা ও মেলায় শত শত ভক্ত ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। চাটমোহর পৌর শহর সংলগ্ন বড়াল নদের পাড়ের বোঁথর গ্রামটি চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। দেশ-বিদেশের অনেকেই আসেন বোঁথরের চড়কপূজা ও মেলায়। এবারও এর ব্যতয় ঘটেনি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরি হয়েছিল এই আয়োজনকে ঘিরে। পূজা উপলক্ষে হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ ভুলে সকলের সামিল হয় সার্বজনীন এই আয়োজনে। চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী,থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফাসহ জনপ্রতিনিধি,সরকারি কর্মকর্তাসহ বিশিষ্টজন উপস্থিত হন এই মেলায়। হরেক রকম পণ্যের পশরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। মাটির তৈজসপত্র থেকে শুরু করে প্লাস্টিক সামগ্রী,তাল পাখা থেকে বৈদ্যুতিক পাখা সবই মিলেছে এই মেলায়। শত শত নারী-পুরুষ আর শিশুর পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গন।
এই পূজা ও মেলা হিন্দুদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন বড়াল নদের তীরের বোঁথর গ্রামটি হয়ে ওঠে তীর্থ ক্ষেত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে। সিন্ধু সভ্যতা থেকেই এই চড়ক পূজা ও মেলা চলে আসছে। গতকাল বুধবার শেষ হয় তিন দিনের এই মেলা।
জানা গেছে,শুদ্র হিন্দু সম্প্রদায়ের মুক্তির বার্তা নিয়ে মহাদেবের আবির্ভাব হয়। সে সময় উচ্চবর্ণের হিন্দু দ্বারা নি¤œবর্ণের হিন্দু নিগৃহিত হতো। ব্রাম্মণবাদের বিলোপ হলে বর্নহিন্দুরাও এতে সম্পৃক্ত হয়। রুপ নেয় সার্বজনীনতায়। মূলতঃ এ পূজার প্রচলন হয় বান রাজার আমল থেকে। শত শত বছর ধরে এই পূজা ও মেলা চলে আসছে।
২২ চৈত্র সন্ধ্যায় পাঠ ঠাকুরের পাঠে ধূপ দিয়ে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। বোঁথর শিব মন্দির থেকে পাঠ নিয়ে যাওয়া হয় বাড়ি বাড়ি। ২৬ ও ২৭ চৈত্র মাঝ রাত থেকে ফুলভাঙ্গা বা কালিনাচ শুরু হয়। তারপর প্রতিমা আসনে বসে। মেলা হয় চৈত্র মাসের শেষ দুইদিন ও বৈশাখ মাসের প্রথম দিন (সনাতন ধর্মালম্বীদের পহেলা বৈশাখ ১৫ এপ্রিল)। আগে নাকি মেলা হতো সপ্তাহব্যাপী। পূজার দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ গত মঙ্গলবার গোধূলি লগ্নে চড়ক গাছ আনুষ্ঠানিকভাবে পোঁতা হয়। এরআগে চড়ক গাছে পূজা দেওয়া হয় দুধ,ফুল ও চিনি দিয়ে। মঙ্গলার্থে ভক্তরা বাতাসা ছিটায়। ভক্তরা নিজেদের সমস্যা সমাধানের জন্য মহাদেব মন্দির প্রদক্ষিণ করেন। চড়ক পূজা উপলক্ষে দোলবাড়িতে মহাদেব আসনে তোলা হয় ২৮ চৈত্র। এই মেলা সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির সৃষ্টি করে।