ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo দীর্ঘদিনের পথচলার স্বীকৃতি: নিবন্ধিত হলো ‘হৃদস্পন্দন ফাউন্ডেশন’ Logo বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল জব্বার আর নেই Logo মাদকসহ অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর মানববন্ধন Logo পাবনায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ Logo ঈশ্বরদীতে নির্মিত হবে নতুন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ঃ রেল সচিব Logo বর্নাঢ্য আয়োজনে চাটমোহর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দিনব্যাপী পুণর্মিলনী উৎসব Logo চাটমোহরে অবৈধভাবে মজুত ১১৪ বস্তা সার জব্দ Logo ভাঙ্গুড়ায় রোজিনা হত্যার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন Logo চাটমোহরে শারদীয় পুনর্মিলনী ও প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ Logo চাটমোহরের শীর্ষ তিন কর্মকর্তা বদলী

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়, দুই পুলিশকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

আমাদের বড়াল ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৪৭ বার পঠিত
244

জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ
ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় সাবেক দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন
কারাদণ্ড এবং বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে
ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় দেন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের
অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা
হলেন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন
সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন এবং এসআই বিভূতি
ভূষণ রায়।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ঘটনাটির ভিডিও ছড়িয়ে
পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং আন্দোলনের গতি তীব্র হয়।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় গত বছরের ২৪ জুন। পরে ৬ আগস্ট অভিযোগ গঠন করে ২৭
আগস্ট থেকে বিচার শুরু হয়। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ শুনানি ও
যুক্তিতর্ক শেষে অবশেষে এ রায় ঘোষণা করা হলো।
রায়ে আরও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেরোবির শিক্ষক মশিউর
রহমান, শিক্ষক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক ভিসি হাসিবুর রশিদ ও রংপুরের সাবেক কমিশনার
মনিরুজ্জামানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকজনকে ৫ বছর এবং ছাত্রলীগের কয়েকজন
নেতাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এএসআই আমির হোসেন ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “আমি
পুলিশের চাকরি করি, হুকুমের গোলাম। আমাকে কেন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো, আমি এ রায় মানি না।”
এই রায়ের মাধ্যমে বহুল আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ
সম্পন্ন হলো।

ট্যাগস :

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়, দুই পুলিশকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ০৭:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
244

জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ
ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় সাবেক দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন
কারাদণ্ড এবং বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে
ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় দেন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের
অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা
হলেন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন
সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন এবং এসআই বিভূতি
ভূষণ রায়।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ঘটনাটির ভিডিও ছড়িয়ে
পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং আন্দোলনের গতি তীব্র হয়।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় গত বছরের ২৪ জুন। পরে ৬ আগস্ট অভিযোগ গঠন করে ২৭
আগস্ট থেকে বিচার শুরু হয়। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ শুনানি ও
যুক্তিতর্ক শেষে অবশেষে এ রায় ঘোষণা করা হলো।
রায়ে আরও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেরোবির শিক্ষক মশিউর
রহমান, শিক্ষক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক ভিসি হাসিবুর রশিদ ও রংপুরের সাবেক কমিশনার
মনিরুজ্জামানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকজনকে ৫ বছর এবং ছাত্রলীগের কয়েকজন
নেতাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এএসআই আমির হোসেন ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “আমি
পুলিশের চাকরি করি, হুকুমের গোলাম। আমাকে কেন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো, আমি এ রায় মানি না।”
এই রায়ের মাধ্যমে বহুল আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ
সম্পন্ন হলো।