ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo আটঘরিয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo চাটমোহরে সার মজুত করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ Logo পাবনায় শিশু কলি হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত Logo চাটমোহরে দিনমজুর হত্যা মামলায় নিরীহ ব্যক্তিদের জড়ানোর প্রতিবাদে গ্রামবাসীর মানববন্ধন ও প্রতিবাদ Logo র‍্যাব বিলুপ্ত হয়ে নতুন নামে যাত্রা শুরু Logo নিখোঁজের সাতদিন পর ডোবায় মিলল শিশু কলির বস্তাবন্দি মরদেহ; পরিবারের দাবি হত্যা Logo ধর্ষণের শিকার পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী Logo চাটমোহরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত Logo দুই শিক্ষার্থী অপহরণ চক্রের ৮ সদস্য গ্রেফতার,উদ্ধার দুই কলেজ শিক্ষার্থী Logo ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৭ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি দেড় হাজারের বেশি

ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনীকে হত্যা,ক্লু পেয়েছে পুলিশ,গ্রেফতার ২

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৭:০১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৯৩ বার পঠিত
140

পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদিকে হত্যার পর নাতনীকে অপরহরণ করে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যার ক্লু পেয়েছে পুলিশ। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।এদিন গভীর রাতে দাদিকে হত্যা করে নাতনিকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
নিহতরা হলেন,ভবানিপুর উত্তরপাড়ার জয়নাল খাঁর মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও মেয়ে জামিলা আক্তার (১৫)।নিহত দাদি ও নাতনী একই বাড়িতে তারা দু’জনই থাকতেন। কোনো পুরুষ মানুষ বাড়িতে ছিল না।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,রাতের কোনো এক সময় হঠাৎ কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন বাড়ির বাইরে বের হন। কিছুক্ষণ পর শব্দ বন্ধ হয়ে গেলে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। শনিবার সকালে বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তার নাতনি জামিলা আক্তারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের সরিষা ও গমক্ষেতের আইল থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাংলাদেশ পুলিশ-এর ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান,ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মরদেহ দুটি ময়নাতদন্ত করা হয়।এলাকায় এ ঘটনায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে,ঈশ্বরদীতে দাদী ও নাতনীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাদের আটক করে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।আটককৃতরা হলেন,ঈশ্বরদী উপজেলার ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের নুরুল মন্ডলের ছেলে রাব্বি মন্ডল এবং মফেজ্জল হোসেনের ছেলে শরিফুল ইসলাম। তাদের পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গেছে।
চাঞ্চল্যকর দাদি-নাতনি হত্যাকাণ্ডের ক্লু হাতে পেয়েছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে এই মুহুর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার মো.শামীম হোসেন শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে দাদি ও নাতনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শণে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার মো. শামীম হোসেন বলেন,‘ইতিমধ্যে আমরা ক্লু হাতে পেয়েছি। এই ক্লু ধরেই পুলিশের স্পেশাল একটি টিম এখন ঈশ্বরদীর বাইরে অবস্থান করছে। আরেকটি টিম আসামি ধরতে অভিযানে রয়েছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে প্রকৃত আসামি ধরতে পারব।’ এর আগে তিনি হত্যাকাণ্ডের এলাকা পরিদর্শণ, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি আরো বলেন,‘লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। এতে মনে হয়েছে,ঘটনার রাতে দাদি হয়তো নাতনিকে বাঁচাতে তাদের বাধা দিয়েছে ও ধস্তাধস্তি হয়েছে। পরে নাতনিকে জোর করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পরে হত্যা করেছে,যা প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ঘটনার ক্লু হাতে পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা যাচ্ছে না। আশা করা যাচ্ছে, অল্প সময়ের মধ্যে আসামি ধরতে পারব।’

ট্যাগস :

ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনীকে হত্যা,ক্লু পেয়েছে পুলিশ,গ্রেফতার ২

আপডেট সময় : ০৭:০১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
140

পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদিকে হত্যার পর নাতনীকে অপরহরণ করে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যার ক্লু পেয়েছে পুলিশ। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।এদিন গভীর রাতে দাদিকে হত্যা করে নাতনিকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
নিহতরা হলেন,ভবানিপুর উত্তরপাড়ার জয়নাল খাঁর মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও মেয়ে জামিলা আক্তার (১৫)।নিহত দাদি ও নাতনী একই বাড়িতে তারা দু’জনই থাকতেন। কোনো পুরুষ মানুষ বাড়িতে ছিল না।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,রাতের কোনো এক সময় হঠাৎ কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন বাড়ির বাইরে বের হন। কিছুক্ষণ পর শব্দ বন্ধ হয়ে গেলে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। শনিবার সকালে বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তার নাতনি জামিলা আক্তারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের সরিষা ও গমক্ষেতের আইল থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাংলাদেশ পুলিশ-এর ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান,ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মরদেহ দুটি ময়নাতদন্ত করা হয়।এলাকায় এ ঘটনায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে,ঈশ্বরদীতে দাদী ও নাতনীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাদের আটক করে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।আটককৃতরা হলেন,ঈশ্বরদী উপজেলার ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের নুরুল মন্ডলের ছেলে রাব্বি মন্ডল এবং মফেজ্জল হোসেনের ছেলে শরিফুল ইসলাম। তাদের পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গেছে।
চাঞ্চল্যকর দাদি-নাতনি হত্যাকাণ্ডের ক্লু হাতে পেয়েছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে এই মুহুর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার মো.শামীম হোসেন শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে দাদি ও নাতনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শণে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার মো. শামীম হোসেন বলেন,‘ইতিমধ্যে আমরা ক্লু হাতে পেয়েছি। এই ক্লু ধরেই পুলিশের স্পেশাল একটি টিম এখন ঈশ্বরদীর বাইরে অবস্থান করছে। আরেকটি টিম আসামি ধরতে অভিযানে রয়েছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে প্রকৃত আসামি ধরতে পারব।’ এর আগে তিনি হত্যাকাণ্ডের এলাকা পরিদর্শণ, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি আরো বলেন,‘লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। এতে মনে হয়েছে,ঘটনার রাতে দাদি হয়তো নাতনিকে বাঁচাতে তাদের বাধা দিয়েছে ও ধস্তাধস্তি হয়েছে। পরে নাতনিকে জোর করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পরে হত্যা করেছে,যা প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ঘটনার ক্লু হাতে পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা যাচ্ছে না। আশা করা যাচ্ছে, অল্প সময়ের মধ্যে আসামি ধরতে পারব।’