ঢাকা ০৩:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo দীর্ঘদিনের পথচলার স্বীকৃতি: নিবন্ধিত হলো ‘হৃদস্পন্দন ফাউন্ডেশন’ Logo বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল জব্বার আর নেই Logo মাদকসহ অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর মানববন্ধন Logo পাবনায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ Logo ঈশ্বরদীতে নির্মিত হবে নতুন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ঃ রেল সচিব Logo বর্নাঢ্য আয়োজনে চাটমোহর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দিনব্যাপী পুণর্মিলনী উৎসব Logo চাটমোহরে অবৈধভাবে মজুত ১১৪ বস্তা সার জব্দ Logo ভাঙ্গুড়ায় রোজিনা হত্যার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন Logo চাটমোহরে শারদীয় পুনর্মিলনী ও প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ Logo চাটমোহরের শীর্ষ তিন কর্মকর্তা বদলী

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র : ২৮ বছরে রাশিয়ার ৯০ শতাংশ ঋণ পরিশোধ করতে হবে

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:২৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ৭৮ বার পঠিত
133

আর্থিক ব্যয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের একক প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই মেগা প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থায়ন ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া, যা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৬ টাকা ধরা হলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বেড়ে প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে পদ্মা নদীর তীরঘেঁষা রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এর মধ্য দিয়ে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এখন ধাপে ধাপে বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারকারী দেশের আন্তর্জাতিক তালিকায় ৩৩তম দেশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান জানান, রিয়্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগবে। এরপর চূড়ান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষণ প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধাপে জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প-এ দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে এখান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণে ভূমিকা রাখবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনের সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া নির্মাণকাজ চলাকালে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ প্রকল্প এলাকায় কাজ করছেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জানান, আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে ১১০০ মেগাওয়াট এবং একই বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ দুই ইউনিট মিলিয়ে ২২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সঞ্চালন লাইনের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে

ট্যাগস :

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র : ২৮ বছরে রাশিয়ার ৯০ শতাংশ ঋণ পরিশোধ করতে হবে

আপডেট সময় : ১০:২৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
133

আর্থিক ব্যয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের একক প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই মেগা প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থায়ন ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া, যা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৬ টাকা ধরা হলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বেড়ে প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে পদ্মা নদীর তীরঘেঁষা রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এর মধ্য দিয়ে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এখন ধাপে ধাপে বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারকারী দেশের আন্তর্জাতিক তালিকায় ৩৩তম দেশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান জানান, রিয়্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগবে। এরপর চূড়ান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষণ প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধাপে জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প-এ দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে এখান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণে ভূমিকা রাখবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনের সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া নির্মাণকাজ চলাকালে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ প্রকল্প এলাকায় কাজ করছেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জানান, আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে ১১০০ মেগাওয়াট এবং একই বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ দুই ইউনিট মিলিয়ে ২২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সঞ্চালন লাইনের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে