ঢাকা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo দীর্ঘদিনের পথচলার স্বীকৃতি: নিবন্ধিত হলো ‘হৃদস্পন্দন ফাউন্ডেশন’ Logo বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল জব্বার আর নেই Logo মাদকসহ অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর মানববন্ধন Logo পাবনায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ Logo ঈশ্বরদীতে নির্মিত হবে নতুন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ঃ রেল সচিব Logo বর্নাঢ্য আয়োজনে চাটমোহর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দিনব্যাপী পুণর্মিলনী উৎসব Logo চাটমোহরে অবৈধভাবে মজুত ১১৪ বস্তা সার জব্দ Logo ভাঙ্গুড়ায় রোজিনা হত্যার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন Logo চাটমোহরে শারদীয় পুনর্মিলনী ও প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ Logo চাটমোহরের শীর্ষ তিন কর্মকর্তা বদলী

ফরিদপুরে দুই শতাধিক কারখানায় তৈরি হচ্ছে অবৈধ চায়নাদুয়ারি জাল

বড়াল প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মে ২০২৫ ২০২ বার পঠিত
153

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ২ শতাধিক কারখানায় তৈরি হচ্ছে অবৈধ চায়নাদুয়ারি জাল।ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা এসব কারখানায় অবাধে তৈরি হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারি জাল। তৈরিকৃত এসব নিষিদ্ধ চয়নাদুয়ারি জালের বাজারজাতকরণ শুরু হয় ভোর থেকে।
উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও কোন ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না এসব অবৈধ কারখানা। এসব অবৈধ চায়নাদুয়ারি জালের কারখানা চললেও তা নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের।
কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের আশায় অনেকটা প্রকাশ্যেই চালিয়ে যাচ্ছে এসব কারখানা। এসব কারখানায় তৈরিকৃত জাল বিক্রি হচ্ছে চলনবিলাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। চায়নাদুয়ারি জালের অঅবাধ ব্যবহারে দেশিয় প্রজাতির মাছ উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে। নিষ্ট হচ্ছে পরিবেশ-প্রতিবেশ। জলজ প্রাণিও বিলুপ্তি হচ্ছে। জীববৈচিত্র্যের জন্য এই জালের ব্যবহারও চরম ক্ষতিকর। এ জাল সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে মাছ আটকে রাখতে সক্ষম। জালের বুননে এক গিঁঠ থেকে আরেক গিঁঠের দূরত্ব খুব কম হওয়ায় মাছ বা অন্য কোনো ক্ষুদ্র জলজ প্রাণি একবার এ জালের মধ্যে প্রবেশ করলে আর বের হতে পারে না। অন্য জালের চেয়ে কম পরিশ্রমে চায়না দুয়ারী জালে অধিক পরিমাণ মাছ পাওয়া যায় বলে মৎস্য শিকারীরা এ জাল ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় মাছ শিকার করছেন অবাধে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,ফরিদপুর উপজেলায় ২৫০টি বড় আকৃতির জাল তৈরির কারখানা রয়েছে। এসব কারখানা থেকে প্রতিদিন কোটি টাকার জাল তৈরি করে চলনবিলাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ডেমড়া গ্রামে আব্দুল খালেক,আব্দুল জব্বার,আলাউদ্দিন, বিদ্যুৎ হলদার,পরিতোষ হলদার, নিত্য হলদার,পরি হলদার,দীপ্ত হলদার,দিলীপ হলদার,তালক হলদার,মোয়াজ্জেম,আঃ সামাদসহ ১৫০টি, রতনপুরে শাহীন,মানিক,সমেশ, আঃ আলীম,পলাশ,আমিন,লতা খাতুন,মিজানুরসহ ৫০টি,আগপুঙ্গলী গ্রামের কালাম,মুন্না,নিমরুল,শিবু, রমজান হোসেন,নুরুল প্রামাণিক,পতিত হলদার,ঈশ্বর হলদার,শিপন ও সুজনসহ ৩০টি,গোপালনগর গ্রামের প্রসেনজিত হলদার,লক্ষণ হলদার,সন্তোষ হলদার,ময়েন,সালাম,রিপন ও আলামিনসহ ২০টি বড় কারখানা রয়েছে। এছাড়া এসব এলাকার সহ¯্রাধিক বাড়িতেও জাল তৈরির সরঞ্জাম রয়েছে । এতে প্রচুর পরিমাণ তৈরি হচ্ছে অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল। সবাইকে ম্যানেজ করেই এসকল কারখানা মালিক এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন ১৯৫০ এর মতে কোন ব্যাক্তি চায়না দুয়ারি জাল তৈরি সংরক্ষণ আমদানি রপ্তানি বাজারজাতকরণ বহন সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়েই চলছে জাল তৈরি,রপ্তানি, বাজারজাতকরণ ও বহন। এ গুলো যেন দেখার কেউ নেই।
এ ব্যাপারে কারখানা মালিক জয়দেব হলদার এক প্রতিবেদককে জানান,চায়না জাল তৈরি করার জন্য আমরা সবাই ম্যানেজ করেই চলাচ্চি। আমাদের তৈরিকৃত জাল সারা বাংলাদেশে যায়।আমার কারখানায় ২০ জন লোক আছে তারা চায়না দুয়ারি জাল তৈরি করে। আপনি আমাদের সভাপতিকে বলেন তিনি সব বলতে পারবেন।
চায়না দুয়ারি জাল তৈরি সমিতির সভাপতি সুশান্ত হলদার এ প্রতিবেদককে জানান,প্রশাসনসহ সবাইকে ম্যানেজ করে আমরা এ কারখানা চালাই। ফলে আমাদের বাজারজাতকরণে কোন সমস্যা হয় না
ফরিদপুরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজিত কুমার মুন্সি জানান,আমি প্রায় এক বছর ৬ মাস হলো ফরিদপুরে এসেছি। অবৈধ চায়না জালের কারখানার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করেছি। বেশকিছু কারখানা আমরা বন্ধ করে দিয়েছি।তারপরও এসব কারখানায় কেন তৈরি করা হচ্ছে অবৈধ জাল,তা আমার জানা নেই। অবৈধ চায়না জালের কারখানার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান জানান,আমরা এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। আপনাদের সহোযোগিতা দরকার। দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।

ট্যাগস :

ফরিদপুরে দুই শতাধিক কারখানায় তৈরি হচ্ছে অবৈধ চায়নাদুয়ারি জাল

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মে ২০২৫
153

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ২ শতাধিক কারখানায় তৈরি হচ্ছে অবৈধ চায়নাদুয়ারি জাল।ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা এসব কারখানায় অবাধে তৈরি হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারি জাল। তৈরিকৃত এসব নিষিদ্ধ চয়নাদুয়ারি জালের বাজারজাতকরণ শুরু হয় ভোর থেকে।
উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও কোন ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না এসব অবৈধ কারখানা। এসব অবৈধ চায়নাদুয়ারি জালের কারখানা চললেও তা নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের।
কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের আশায় অনেকটা প্রকাশ্যেই চালিয়ে যাচ্ছে এসব কারখানা। এসব কারখানায় তৈরিকৃত জাল বিক্রি হচ্ছে চলনবিলাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। চায়নাদুয়ারি জালের অঅবাধ ব্যবহারে দেশিয় প্রজাতির মাছ উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে। নিষ্ট হচ্ছে পরিবেশ-প্রতিবেশ। জলজ প্রাণিও বিলুপ্তি হচ্ছে। জীববৈচিত্র্যের জন্য এই জালের ব্যবহারও চরম ক্ষতিকর। এ জাল সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে মাছ আটকে রাখতে সক্ষম। জালের বুননে এক গিঁঠ থেকে আরেক গিঁঠের দূরত্ব খুব কম হওয়ায় মাছ বা অন্য কোনো ক্ষুদ্র জলজ প্রাণি একবার এ জালের মধ্যে প্রবেশ করলে আর বের হতে পারে না। অন্য জালের চেয়ে কম পরিশ্রমে চায়না দুয়ারী জালে অধিক পরিমাণ মাছ পাওয়া যায় বলে মৎস্য শিকারীরা এ জাল ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় মাছ শিকার করছেন অবাধে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,ফরিদপুর উপজেলায় ২৫০টি বড় আকৃতির জাল তৈরির কারখানা রয়েছে। এসব কারখানা থেকে প্রতিদিন কোটি টাকার জাল তৈরি করে চলনবিলাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ডেমড়া গ্রামে আব্দুল খালেক,আব্দুল জব্বার,আলাউদ্দিন, বিদ্যুৎ হলদার,পরিতোষ হলদার, নিত্য হলদার,পরি হলদার,দীপ্ত হলদার,দিলীপ হলদার,তালক হলদার,মোয়াজ্জেম,আঃ সামাদসহ ১৫০টি, রতনপুরে শাহীন,মানিক,সমেশ, আঃ আলীম,পলাশ,আমিন,লতা খাতুন,মিজানুরসহ ৫০টি,আগপুঙ্গলী গ্রামের কালাম,মুন্না,নিমরুল,শিবু, রমজান হোসেন,নুরুল প্রামাণিক,পতিত হলদার,ঈশ্বর হলদার,শিপন ও সুজনসহ ৩০টি,গোপালনগর গ্রামের প্রসেনজিত হলদার,লক্ষণ হলদার,সন্তোষ হলদার,ময়েন,সালাম,রিপন ও আলামিনসহ ২০টি বড় কারখানা রয়েছে। এছাড়া এসব এলাকার সহ¯্রাধিক বাড়িতেও জাল তৈরির সরঞ্জাম রয়েছে । এতে প্রচুর পরিমাণ তৈরি হচ্ছে অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল। সবাইকে ম্যানেজ করেই এসকল কারখানা মালিক এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন ১৯৫০ এর মতে কোন ব্যাক্তি চায়না দুয়ারি জাল তৈরি সংরক্ষণ আমদানি রপ্তানি বাজারজাতকরণ বহন সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়েই চলছে জাল তৈরি,রপ্তানি, বাজারজাতকরণ ও বহন। এ গুলো যেন দেখার কেউ নেই।
এ ব্যাপারে কারখানা মালিক জয়দেব হলদার এক প্রতিবেদককে জানান,চায়না জাল তৈরি করার জন্য আমরা সবাই ম্যানেজ করেই চলাচ্চি। আমাদের তৈরিকৃত জাল সারা বাংলাদেশে যায়।আমার কারখানায় ২০ জন লোক আছে তারা চায়না দুয়ারি জাল তৈরি করে। আপনি আমাদের সভাপতিকে বলেন তিনি সব বলতে পারবেন।
চায়না দুয়ারি জাল তৈরি সমিতির সভাপতি সুশান্ত হলদার এ প্রতিবেদককে জানান,প্রশাসনসহ সবাইকে ম্যানেজ করে আমরা এ কারখানা চালাই। ফলে আমাদের বাজারজাতকরণে কোন সমস্যা হয় না
ফরিদপুরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজিত কুমার মুন্সি জানান,আমি প্রায় এক বছর ৬ মাস হলো ফরিদপুরে এসেছি। অবৈধ চায়না জালের কারখানার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করেছি। বেশকিছু কারখানা আমরা বন্ধ করে দিয়েছি।তারপরও এসব কারখানায় কেন তৈরি করা হচ্ছে অবৈধ জাল,তা আমার জানা নেই। অবৈধ চায়না জালের কারখানার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান জানান,আমরা এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। আপনাদের সহোযোগিতা দরকার। দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।