ঢাকা ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo দীর্ঘদিনের পথচলার স্বীকৃতি: নিবন্ধিত হলো ‘হৃদস্পন্দন ফাউন্ডেশন’ Logo বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল জব্বার আর নেই Logo মাদকসহ অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর মানববন্ধন Logo পাবনায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ Logo ঈশ্বরদীতে নির্মিত হবে নতুন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ঃ রেল সচিব Logo বর্নাঢ্য আয়োজনে চাটমোহর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দিনব্যাপী পুণর্মিলনী উৎসব Logo চাটমোহরে অবৈধভাবে মজুত ১১৪ বস্তা সার জব্দ Logo ভাঙ্গুড়ায় রোজিনা হত্যার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন Logo চাটমোহরে শারদীয় পুনর্মিলনী ও প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ Logo চাটমোহরের শীর্ষ তিন কর্মকর্তা বদলী

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার কে এম সফিউল্লাহ আর নেই

আমাদের বড়াল ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫ ১৯৫ বার পঠিত
148

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, সকালে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা, যার মধ্যে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, থাইরয়েডের সমস্যা, ফ্যাটি লিভার ও ডিমেনশিয়া ছিল অন্যতম।
কে এম সফিউল্লাহর প্রথম জানাজা বাদ জোহর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। পরে বাদ আসর, ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
১৯৩৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা সফিউল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি ৩ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং পরবর্তীতে ‘এস’ ফোর্সের নেতৃত্ব দেন। তাঁর সাহসিকতা এবং নেতৃত্বের জন্য তিনি মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ‘বীর উত্তম’ খেতাব পান।
স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত তিনি সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিভিন্ন দেশে কাজ করেছেন, যেমন মালয়েশিয়া, কানাডা, সুইডেন, ইংল্যান্ড।
১৯৯৫ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়াও, ২০০৭ সালে মুক্তিযুদ্ধের জীবিত সেক্টর কমান্ডারদের নিয়ে গঠিত সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়েও তাঁর জীবন ছিল বিতর্কিত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদের সরকারকে সমর্থন দেওয়ার কারণে তাকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তবে তিনি নিজেকে সেই পরিস্থিতিতে ‘বাধ্য’ হিসেবে দেখিয়েছিলেন।
তাঁর মৃত্যু দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করল।

ট্যাগস :

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার কে এম সফিউল্লাহ আর নেই

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫
148

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, সকালে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা, যার মধ্যে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, থাইরয়েডের সমস্যা, ফ্যাটি লিভার ও ডিমেনশিয়া ছিল অন্যতম।
কে এম সফিউল্লাহর প্রথম জানাজা বাদ জোহর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। পরে বাদ আসর, ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
১৯৩৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা সফিউল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি ৩ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং পরবর্তীতে ‘এস’ ফোর্সের নেতৃত্ব দেন। তাঁর সাহসিকতা এবং নেতৃত্বের জন্য তিনি মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ‘বীর উত্তম’ খেতাব পান।
স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত তিনি সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিভিন্ন দেশে কাজ করেছেন, যেমন মালয়েশিয়া, কানাডা, সুইডেন, ইংল্যান্ড।
১৯৯৫ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়াও, ২০০৭ সালে মুক্তিযুদ্ধের জীবিত সেক্টর কমান্ডারদের নিয়ে গঠিত সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়েও তাঁর জীবন ছিল বিতর্কিত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদের সরকারকে সমর্থন দেওয়ার কারণে তাকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তবে তিনি নিজেকে সেই পরিস্থিতিতে ‘বাধ্য’ হিসেবে দেখিয়েছিলেন।
তাঁর মৃত্যু দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করল।