ঢাকা ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo চাটমোহরের শীর্ষ তিন কর্মকর্তা বদলী Logo ফরিদপুরে মায়ের গলা কেটে পাশের বাড়িতে লুকিয়ে ছিল মাদকাসক্ত ছেলে Logo নাটোরে সড়কে নিহত ১৪,তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি,ফিটনেস ছিল না বাসটির Logo চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইপিএস প্রদান Logo জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দাবিতে চাটমোহরে মানববন্ধন Logo চাটমোহরে দুই মাদকসেবীর কারাদন্ড Logo লটারি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষা চালুর দাবিতে পাবনায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান Logo ঈশ্বরদীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা প্রদান Logo চাটমোহরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারী আটক Logo আসন্ন পার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে জিয়াউর রহমানের প্রার্থিতা ঘোষণা

নাটোরে সড়কে নিহত ১৪,তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি,ফিটনেস ছিল না বাসটির

নাটোর প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পঠিত
5

নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত আরপি পরিবহনের বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ছিল না। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
নাটোর বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ চলতি বছরের ১৩ মে শেষ হয়েছে। তবে বাসটির রুট পারমিটের মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের ১৩ মে পর্যন্ত। ফিটনেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাসটি কীভাবে চলাচল করছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মহাসড়কে অন্য যানবাহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে বাসটির সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে। দুর্ঘটনায় বাস ও ট্রাকের চালকও নিহত হয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪, পরিচয় মিলল কয়েকজনের। নিহতদের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), একই উপজেলার বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে শালাল মোল্লা (৪৫), কাজীরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), জাজিরা উপজেলার সামাদ (৭০), কাশেম (৩৫) ও জহুর উদ্দিন। এ ছাড়া বাসটির চালক রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে সোহেল রানা (৪০) নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল সরকারপাড়ায় যান জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার ও পুলিশ সুপার শরীফুল হক। এ সময় জেলা প্রশাসক নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন। পুলিশ সুপার ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নাটোরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর সকালে আহত ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে দুজন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। বাকি সাতজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। দুর্ঘটনা রোধে পাবনা-বনপাড়া মহাসড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস :

নাটোরে সড়কে নিহত ১৪,তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি,ফিটনেস ছিল না বাসটির

আপডেট সময় : ০৫:৫৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
5

নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত আরপি পরিবহনের বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ছিল না। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
নাটোর বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ চলতি বছরের ১৩ মে শেষ হয়েছে। তবে বাসটির রুট পারমিটের মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের ১৩ মে পর্যন্ত। ফিটনেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাসটি কীভাবে চলাচল করছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মহাসড়কে অন্য যানবাহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে বাসটির সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে। দুর্ঘটনায় বাস ও ট্রাকের চালকও নিহত হয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪, পরিচয় মিলল কয়েকজনের। নিহতদের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), একই উপজেলার বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে শালাল মোল্লা (৪৫), কাজীরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), জাজিরা উপজেলার সামাদ (৭০), কাশেম (৩৫) ও জহুর উদ্দিন। এ ছাড়া বাসটির চালক রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে সোহেল রানা (৪০) নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল সরকারপাড়ায় যান জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার ও পুলিশ সুপার শরীফুল হক। এ সময় জেলা প্রশাসক নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন। পুলিশ সুপার ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নাটোরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর সকালে আহত ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে দুজন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। বাকি সাতজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। দুর্ঘটনা রোধে পাবনা-বনপাড়া মহাসড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।