ঢাকা ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo দীর্ঘদিনের পথচলার স্বীকৃতি: নিবন্ধিত হলো ‘হৃদস্পন্দন ফাউন্ডেশন’ Logo বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল জব্বার আর নেই Logo মাদকসহ অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর মানববন্ধন Logo পাবনায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ Logo ঈশ্বরদীতে নির্মিত হবে নতুন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ঃ রেল সচিব Logo বর্নাঢ্য আয়োজনে চাটমোহর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দিনব্যাপী পুণর্মিলনী উৎসব Logo চাটমোহরে অবৈধভাবে মজুত ১১৪ বস্তা সার জব্দ Logo ভাঙ্গুড়ায় রোজিনা হত্যার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন Logo চাটমোহরে শারদীয় পুনর্মিলনী ও প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ Logo চাটমোহরের শীর্ষ তিন কর্মকর্তা বদলী

ভাঙ্গুড়ায় চাঁদাবাজির অভিযোগে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক শ্রমিক নেতা

ভাঙ্গুড়া(পাবনা)প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০২:০৭:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১০৪ বার পঠিত
177

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নির্মানাধীন ভবনে চাঁদা দাবির অভিযোগে যৌথ বাহিনীর অভিযানে মাসুদ রানা (৫৫) ও আব্দুল মালেক (৫৩) নামে দুই সহোদর আটক হয়েছে। সোমবার রাতে তাদের আটক করে যৌথ বাহিনী। আটক ব্যক্তিরা পৌর শহরের ভাঙ্গুড়া রেল পাড়ার বাসিন্দা ও উপজেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রভাবশালী নেতা। এ ঘটনায় ভবন মালিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ নওশাদ আলী ভাঙ্গুড়া থানায় চারজনকে আসামি করে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আরো দুই আসামি হলেন মাসুদ রানার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা ও সাংবাদিক গোলাম রাব্বি (২৫) এবং গোলাম রাফি (২৩)।আটক মাসুদ রানা একাধিক মাদক মামলায় কারাভোগ করে বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নওশাদ আলী পৌর শহরের ভাঙ্গুড়া বাজারে হাইস্কুল রোড এলাকায় সম্প্রতি ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এরপর গত কয়েকদিন ধরে অভিযুক্ত সহোদর মাসুদ রানা ও আব্দুল মালেক, মাসুদ রানার ছেলে গোলাম রাব্বি ও গোলাম রাফি নওশাদ আলীর কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তারা কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপরেও ওই সেনা সদস্য কাজ চালিয়ে যেতে থাকলে সোমবার অভিযুক্তরা নওশাদ আলীর ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে যান এবং নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান। এতে নিরুপায় হয়ে ওই সেনা সদস্য স্থানীয় সেনা ক্যাম্প ও থানায় অভিযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে আব্দুল মালেক ও মাসুদ রানাকে আটক করে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখানে চাঁদাবাজির ঘটনা স্বীকার করায় আব্দুল মালেক ও মাসুদ রানাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে অন্যরা পলাতক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, মাসুদ রানা দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে উপজেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রভাবশালী নেতা। তার বিরুদ্ধে ভাঙ্গুড়ায় সরকারি জমি দখল বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মাসুদ রানা ও তার সহোদররা কোটি টাকায় শহরের রেল চত্বর এলাকায় অনেক দখলকৃত জমি বিক্রি করেছেন। এসব জমিতে বিপণী বিতান নির্মাণ করেছেন ক্রেতারা। এছাড়া দীর্ঘদিন মাসুদ রানা মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত বলে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মুস্তাফিজুর রহমান জানান, ভাঙ্গুড়া থানার মামলা নং-০৬,তাং-২৬/০১/২৬ ইং, ধারা-৪৪৭/৩৮৫/৩৪ পেনাল কোড সংক্রান্ত এজাহারনামীয় আসামী মোঃ মাসুদ রানা (৫৫) ও মোঃ আব্দুল মালেক (৫৩) কে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ফটো ক্যাপশন: চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক সহোদর মাসুদ রানা ও আব্দুল মালেক।

ট্যাগস :

ভাঙ্গুড়ায় চাঁদাবাজির অভিযোগে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক শ্রমিক নেতা

আপডেট সময় : ০২:০৭:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
177

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নির্মানাধীন ভবনে চাঁদা দাবির অভিযোগে যৌথ বাহিনীর অভিযানে মাসুদ রানা (৫৫) ও আব্দুল মালেক (৫৩) নামে দুই সহোদর আটক হয়েছে। সোমবার রাতে তাদের আটক করে যৌথ বাহিনী। আটক ব্যক্তিরা পৌর শহরের ভাঙ্গুড়া রেল পাড়ার বাসিন্দা ও উপজেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রভাবশালী নেতা। এ ঘটনায় ভবন মালিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ নওশাদ আলী ভাঙ্গুড়া থানায় চারজনকে আসামি করে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আরো দুই আসামি হলেন মাসুদ রানার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা ও সাংবাদিক গোলাম রাব্বি (২৫) এবং গোলাম রাফি (২৩)।আটক মাসুদ রানা একাধিক মাদক মামলায় কারাভোগ করে বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নওশাদ আলী পৌর শহরের ভাঙ্গুড়া বাজারে হাইস্কুল রোড এলাকায় সম্প্রতি ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এরপর গত কয়েকদিন ধরে অভিযুক্ত সহোদর মাসুদ রানা ও আব্দুল মালেক, মাসুদ রানার ছেলে গোলাম রাব্বি ও গোলাম রাফি নওশাদ আলীর কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তারা কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপরেও ওই সেনা সদস্য কাজ চালিয়ে যেতে থাকলে সোমবার অভিযুক্তরা নওশাদ আলীর ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে যান এবং নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান। এতে নিরুপায় হয়ে ওই সেনা সদস্য স্থানীয় সেনা ক্যাম্প ও থানায় অভিযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে আব্দুল মালেক ও মাসুদ রানাকে আটক করে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখানে চাঁদাবাজির ঘটনা স্বীকার করায় আব্দুল মালেক ও মাসুদ রানাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে অন্যরা পলাতক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, মাসুদ রানা দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে উপজেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রভাবশালী নেতা। তার বিরুদ্ধে ভাঙ্গুড়ায় সরকারি জমি দখল বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মাসুদ রানা ও তার সহোদররা কোটি টাকায় শহরের রেল চত্বর এলাকায় অনেক দখলকৃত জমি বিক্রি করেছেন। এসব জমিতে বিপণী বিতান নির্মাণ করেছেন ক্রেতারা। এছাড়া দীর্ঘদিন মাসুদ রানা মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত বলে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মুস্তাফিজুর রহমান জানান, ভাঙ্গুড়া থানার মামলা নং-০৬,তাং-২৬/০১/২৬ ইং, ধারা-৪৪৭/৩৮৫/৩৪ পেনাল কোড সংক্রান্ত এজাহারনামীয় আসামী মোঃ মাসুদ রানা (৫৫) ও মোঃ আব্দুল মালেক (৫৩) কে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ফটো ক্যাপশন: চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক সহোদর মাসুদ রানা ও আব্দুল মালেক।